
গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করছেন। তবে বিদেশ থেকে ফেরার সময় ব্যাগে কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য থাকলে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে পারেন তারা। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আমদানি বিধি অনুযায়ী, নিষিদ্ধ মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ £৫,০০০ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের কৃষি ও পশুসম্পদ খাতকে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতেই এসব বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে ‘ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ’ (FMD) বা খুরা রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যও গরু, শূকর, ভেড়া বা ছাগলের মাংস এবং এসব মাংস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য যুক্তরাজ্যে আনা নিষিদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে সসেজ, সালামি, হ্যাম, বেকনসহ নানা ধরনের প্রক্রিয়াজাত মাংস। একই সঙ্গে চিজ, দুধ ও কিছু দুগ্ধজাত পণ্যও নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অনেক পর্যটক স্থানীয় বাজার বা বিমানবন্দরের ডিউটি-ফ্রি দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনে আনেন। কিন্তু পণ্যটি বৈধভাবে কেনা হলেও সেটি যদি নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত হয়, তাহলে সেটি জব্দ করা হবে এবং জরিমানাও হতে পারে।
সীমান্ত কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হতে পারে। নিষিদ্ধ খাদ্যপণ্য পাওয়া গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হবে। গুরুতর ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ £৫,০০০ পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা আরোপ করা সম্ভব।
তবে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষ দুধ, চিকিৎসাজনিত প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য সীমিত পরিমাণে আনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবুও ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার আগে সর্বশেষ কাস্টমস নির্দেশিকা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক যাত্রী নিয়ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করেন। তাই বিদেশে কেনাকাটার সময় সতর্ক থাকা এবং খাদ্যপণ্য বহনের আগে সংশ্লিষ্ট বিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
বিদেশ ভ্রমণের স্মৃতি হিসেবে খাবার বা স্থানীয় বিশেষ পণ্য সঙ্গে আনার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু সামান্য অসতর্কতার কারণে সেই স্মৃতিই পরিণত হতে পারে হাজার পাউন্ডের জরিমানায়। তাই যুক্তরাজ্যে ফেরার আগে ব্যাগে কী রয়েছে, তা আরেকবার ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।