
যুক্তরাজ্যের ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি (ডিভিএলএ)-এর এক সাবেক কর্মচারী এবং দুই গাড়ি ব্যবসায়ীকে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির দায়ে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গাড়ির নথি ও রেকর্ডে অবৈধ পরিবর্তন এনে যানবাহনের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর মাধ্যমে তারা বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়েছিল বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
সোয়ানসির ডিভিএলএ কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় ৩২ বছর বয়সী ম্যাথিউ হলোওয়ে তার সরকারি প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে বিভিন্ন গাড়ির নথি ও তথ্য জালিয়াতি করেন। তদন্তে জানা যায়, গাড়ি ব্যবসায়ী জশুয়া সয়ার ও অ্যাশলি হ্যারিসের নির্দেশে তিনি একাধিক যানবাহনের রেকর্ড পরিবর্তন এবং ভুয়া নথি তৈরির কাজ করেন। এর বিনিময়ে তিনি অর্থ গ্রহণ করেন।
এই জালিয়াতির ফলে ডিভিএলএর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড। একই সঙ্গে পরিবর্তিত নথির কারণে সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত বেড়ে যায় বলে আদালতে জানানো হয়।
মামলার শুনানিতে উঠে আসে, একটি ফেরারি গাড়ি যা অস্ট্রেলিয়ায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘রাইট-অফ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, সেটিকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বৈধ গাড়ি হিসেবে বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ ধরনের আরও বেশ কয়েকটি গাড়ির তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছিল।
আদালত জানিয়েছে, হ্যারিস ও সয়ার বিভিন্ন নিয়ম-কানুন এড়িয়ে এসব পরিবর্তন করানোর জন্য হলোওয়েকে মোট ২৩ হাজার ৪০০ পাউন্ড প্রদান করেন। পরে ডিভিএলএর অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে হলোওয়েকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সংঘটিত এই প্রতারণার ঘটনায় তিনজনই আগে দোষ স্বীকার করেন। সোয়ানসি ক্রাউন কোর্ট ম্যাথিউ হলোওয়েকে পাঁচ বছর তিন মাসের কারাদণ্ড, অ্যাশলি হ্যারিসকে দুই বছর আট মাস এবং জশুয়া সয়ারকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রতিনিধি লিসা ম্যাকার্থি বলেন, অভিযুক্তরা সংগঠিতভাবে গাড়ির প্রকৃত অবস্থা ও ইতিহাস গোপন করতে নথিপত্র পরিবর্তন করেছে। তাদের কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্যের যানবাহন নিবন্ধন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল, যার ওপর সাধারণ মানুষ, মোটর ব্যবসায়ী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্ভর করে।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক হিউ রিস ম্যাথিউ হলোওয়ের কর্মকাণ্ডকে “বিশ্বাসভঙ্গের গুরুতর উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অপরাধটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত ও জটিল, যা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে।
ডিভিএলএর এক মুখপাত্র বলেন, এই ঘটনা সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থার ওপর আঘাত হেনেছে। জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।