
কক্সবাজারের রামুতে দুই ভাইয়ের কথা-কাটাকাটির জেরে ছোট ভাইকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া গুলিতে তাদের বাবা বিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার (৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারী হাসপাতালে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাইছেন না।
নিহত আয়াছ উদ্দিন (৬৫) রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ধেছুয়াপালং তেলখোলা গ্রামের মৃত আমিন মো. আলীর ছেলে। অভিযুক্ত জুবায়ের উদ্দিন নিহত আয়াছ উদ্দিনের ছোট ছেলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে প্রাথমিকভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রামুর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক প্রভাকর বড়ুয়া জানান, গত শুক্রবার (৫ জুন) রাত ১০টার দিকে নিহতের দুই ছেলে জুবাইর ও জাহেদের মধ্যে মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই জুবায়ের ছোট জাহেদকে মারতে গেলে তিনি ঘরের চালে উঠে পড়েন। এ ঘটনার আধা ঘণ্টা পর ক্ষিপ্ত হয়ে জানালা দিয়ে জুবাইর জাহেদকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে সঙ্গে থাকা বাবা আয়াছ উদ্দিন আহত হন।
তিনি বলেন, পরে গুরুতর আহত আয়াছ উদ্দিনকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠান। অপরদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই অভিযুক্ত জুবায়ের পালিয়ে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জের ধরে বিষয়টি ঘটেছে বলে আমি জেনেছি। এ ঘটনায় গুলির ব্যবহারের বিষয়ে আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছি না।
কী কারণে ঘটনাটি ঘটেছে এবং গুলি কোথায় থেকে এলো?- এমন প্রশ্নে নিহতের ছোট ছেলে মো. জাহেদ বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের একান্তই পারিবারিক। আমরা এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না। আমরা নিজেরাই সমস্যার সমাধান করব।’ এ সময় গুলির বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্পিরিন্ট জাতীয় কিছু আলামত উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে মুল অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।