বাংলাদেশ

সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী

15738_IMG_5264.jpeg

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী।

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এবং দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উত্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অর্থ বিলে স্বাক্ষরের পর বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম এই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটির মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ এবং বিশাল এক মাইলফলক। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল বাজেটের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা, ব্যবসা-বাণিজ্যে জটিল নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মজবুত ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় শামিল করা। ভৌত অবকাঠামো খাতের চেয়ে এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা, মানবসম্পদ ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর, যা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি বড় প্রতিফলন।

সামষ্টিক অর্থনীতির দিক থেকে এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর একাই সংগ্রহ করবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আয়ের এই বিশাল লক্ষ্যের পরও ব্যয়ের বড় আকারের কারণে সামগ্রিকভাবে আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করবে সরকার।

অন্যদিকে, দেশের সাধারণ মানুষের ওপর চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর জন্য সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার এবং একই সাথে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

 

 

বাজেটে সাধারণ করদাতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী এবং জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর শুল্ক ও কর কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেন সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হ্রাস পায়। দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় দেশের সার্বিক অবকাঠামো ও আঞ্চলিক বিকেন্দ্রীকরণে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

 

 

সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই বাজেট উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আজ থেকে বাজেট অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে গতি পেল। আগামী দিনগুলোতে এই প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা ও সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে, প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন শেষে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অর্থবিল পাসের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বাজেটটি নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও