যুক্তরাজ্য

GBNews
১২ জুন ২০২৬, ১২:০৬
আরও খবর

ললিপপ প্যাট্রোলের ‘স্টপ’ সাইন উপেক্ষা করলেই জরিমানা ও পেনাল্টি পয়েন্ট

15756_school-crossing-guards-will-be-wearing-bodycams Medium.jpeg

স্কুলের সামনে দায়িত্ব পালনরত ললিপপ বা স্কুল ক্রসিং প্যাট্রোল কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্য করা চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী কোভেন্ট্রিতে দুইজন স্কুল ক্রসিং প্যাট্রোল কর্মী গাড়ির ধাক্কায় আহত হওয়ার ঘটনার পর এ বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

কাউন্সিল জানিয়েছে, অধিকাংশ চালক নিয়ম মেনে চললেও কিছু মোটরচালক প্যাট্রোল কর্মকর্তাদের ‘স্টপ’ সাইন উপেক্ষা করছেন, যা শিশু ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া কয়েকজন প্যাট্রোল কর্মী চালকদের কাছ থেকে মৌখিক হয়রানি ও দুর্ব্যবহারেরও শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের রোড সেফটি এডুকেশন টিম চালকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, স্কুল ক্রসিং প্যাট্রোল কর্মকর্তা যখন তাদের ‘স্টপ’ সাইন উঁচিয়ে ধরেন, তখন আইন অনুযায়ী চালকদের থামার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কাউন্সিলের সিনিয়র রোড সেফটি অফিসার রোজালি টেইলর বলেন, “একজন স্কুল ক্রসিং প্যাট্রোল কর্মকর্তা সাইন প্রদর্শন করার সঙ্গে সঙ্গেই চালকদের থামার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এমনকি কর্মকর্তা তখনও রাস্তায় প্রবেশ না করলেও। এই নিয়ম না মানার কোনো অজুহাত নেই।”

কাউন্সিল জানিয়েছে, উচ্চ-দৃশ্যমানতার পোশাক ও স্পষ্টভাবে চিহ্নিত ‘স্টপ’ সাইন থাকা সত্ত্বেও কিছু চালক নির্দেশ অমান্য করছেন। এর ফলে শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করতে গিয়ে প্যাট্রোল কর্মীদের ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ওয়ারউইকশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের পরিবহন ও পরিকল্পনা বিষয়ক পোর্টফোলিও হোল্ডার কাউন্সিলর স্টিফেন শ বলেন, স্কুল ক্রসিং প্যাট্রোল কর্মকর্তাদের ট্রাফিক থামানোর ক্ষেত্রে পুলিশের সমান আইনগত ক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, “শিশু ও অন্যান্য পথচারীদের জন্য সড়ক নিরাপদ রাখতে কাউন্সিল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্কুল ক্রসিং প্যাট্রোল আমাদের কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। চালকদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে, প্যাট্রোল কর্মকর্তা ‘স্টপ’ সাইন প্রদর্শন করলে তা অমান্য করা একটি অপরাধ।”

তিনি আরও বলেন, যারা এই নির্দেশ অমান্য করেন তারা শুধু শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পথচারীকেই নয়, প্যাট্রোল কর্মীদেরও বিপদের মুখে ঠেলে দেন। এ ধরনের ঘটনা পুলিশকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাউন্সিল ইতোমধ্যে স্কুল ক্রসিং প্যাট্রোল কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা চালু করেছে। এসব ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে এবং প্রয়োজনে ওয়ারউইকশায়ার পুলিশের ‘অপ স্ন্যাপ’ রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জমা দেওয়া হবে।

কাউন্সিল জানিয়েছে, চলমান ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে চালকদের ৭০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সে তিনটি পেনাল্টি পয়েন্ট দেওয়া হতে পারে। একই নিয়ম সাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কোনো চালক বা সাইকেল আরোহী যদি প্যাট্রোল কর্মকর্তার প্রদর্শিত ‘স্টপ’ সাইন অমান্য করে রাস্তা অতিক্রম করেন, তবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কাউন্সিল চালকদের স্কুল এলাকায় প্রবেশের সময় গতি কমিয়ে চলা, সতর্কতামূলক সাইন ও ফ্ল্যাশিং লাইটের দিকে নজর রাখা এবং প্যাট্রোল কর্মকর্তার নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ‘স্কুল কিপ ক্লিয়ার’ চিহ্নিত এলাকায় গাড়ি না থামানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এসব স্থানে যানবাহন দাঁড় করানো শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও