যুক্তরাজ্য

Mirror
২৬ জুন ২০২৬, ১৬:০৬
আরও খবর

ইংল্যান্ডের সব স্কুলে সোমবার (২৯ জুন) থেকে বাধ্যতামূলক মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ!

15876_skynews-schools-mobile-phones_6537624.jpeg

ইংল্যান্ডের সব স্কুলে আগামী সোমবার, ২৯ জুন থেকে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। নতুন আইনের আওতায় এবার থেকে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সরকারি নির্দেশিকা আইনগত বাধ্যবাধকতায় পরিণত হবে। এর ফলে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানোর সুযোগ থাকবে না এবং স্কুলগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে এই বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, স্কুল চলাকালীন পুরো সময় শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন বা একই ধরনের স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, ক্লাসের মধ্যবর্তী সময়, বিরতি, মধ্যাহ্নভোজের সময়সহ পুরো স্কুল সময়জুড়েই কার্যকর থাকবে। শুধু স্মার্টফোন নয়, বার্তা বা নোটিফিকেশন গ্রহণ করতে সক্ষম স্মার্টওয়াচসহ অনুরূপ যোগাযোগ প্রযুক্তিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।

নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে প্রতিটি স্কুলকে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং তা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। শিক্ষা মান তদারককারী সংস্থা অফস্টেড পরিদর্শনের সময় স্কুলগুলো এই নীতিমালা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে, সেটিও মূল্যায়ন করবে।

তবে আইনটি স্কুলগুলোকে বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে কিছুটা স্বাধীনতা দিয়েছে। অনেক স্কুল পুরো ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে পারে, আবার কোথাও শিক্ষার্থীদের দিনের শুরুতে ফোন জমা দিতে হতে পারে। কিছু স্কুলে ফোন সঙ্গে রাখার অনুমতি থাকলেও তা অবশ্যই বন্ধ অবস্থায় রাখতে হবে।

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, অর্থাৎ ইয়ার ১২ ও ১৩-এর শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তারা নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানে, যেমন সিক্সথ ফর্ম কমনরুমে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে, তবে শর্ত হলো তারা যেন কম বয়সী শিক্ষার্থীদের সামনে ফোন ব্যবহার না করে। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থী চিকিৎসাজনিত কারণে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে বাধ্য, যেমন ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণের জন্য, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।

এদিকে নতুন নিয়ম নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেক অভিভাবক মনে করেন, তাদের সন্তানরা নতুন নিয়ম এড়ানোর কোনো না কোনো উপায় খুঁজে বের করবে। এছাড়া এক-তৃতীয়াংশ অভিভাবকের ধারণা, স্কুল শেষে বাড়িতে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের চাহিদা আরও বেড়ে যাবে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধেক অভিভাবকই জানেন না যে গোপন ব্রাউজার বা ভিপিএন ব্যবহার করে শিশুদের জন্য নির্ধারিত প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। আবার যেসব পরিবার ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে, তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে প্রায় তিনজন জানিয়েছেন, তাদের সন্তান কোনো না কোনোভাবে সেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আর্নেস্ট ডোকু বলেন, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করা শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, তবে চ্যালেঞ্জ স্কুল ছুটির পরও থেকে যাবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে শিশুরা বাড়িতে আরও বেশি সময় বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করবে, যেখানে অভিভাবকেরা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

তিনি বলেন, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করা একটি ভালো শুরু হলেও অনেক অভিভাবক জানেন না যে গোপন ব্রাউজার বা ভিপিএনের মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ অতিক্রম করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা এসব কৌশল তাদের অভিভাবকদের আগেই জেনে যায়। তাই শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদেরও সন্তানের ব্যবহৃত ডিভাইসের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও