
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খানের দীর্ঘদিনের বাকযুদ্ধ আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সমালোচনার জবাবে সাদিক খান রসিকতার সুরে বলেছেন, মনে হচ্ছে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাথায় ভাড়ামুক্তভাবে বাস করছেন এবং ট্রাম্পের যেন তার প্রতি ‘ক্রাশ’ রয়েছে।
উত্তর-পূর্ব লন্ডনের একটি ফায়ার স্টেশনে ‘হিট রেডি প্ল্যান’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাদিক খান বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না কেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাথায় আমি সব সময় ঘুরপাক খাচ্ছি। কেন তিনি আমার প্রতি এতটা আগ্রহী, সেটিও পরিষ্কার নয়। হয়তো এর কারণ আমি একটি প্রগতিশীল, বহুসাংস্কৃতিক, উদার ও সফল শহরের মেয়র।”
তিনি আরও বলেন, “গত সপ্তাহে বিশ্বের সেরা শহর হিসেবে ‘লি কুয়ান ইউ পুরস্কার’ জিতেছে লন্ডন। সম্ভবত এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিরক্ত।”
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রসঙ্গান্তরে সাদিক খানকে ‘খারাপ মানুষ’ এবং যুক্তরাজ্যের ‘ভয়াবহ প্রতিনিধি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে চাই না, কিন্তু লন্ডনের মেয়র চরম অযোগ্য।”
ট্রাম্প ও সাদিক খানের এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সূচনা প্রায় এক দশক আগে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়ার পর ট্রাম্পের সমালোচনা করেছিলেন সাদিক খান। এরপর ২০১৬ সালে লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ট্রাম্পের ইসলামবিষয়ক মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপূর্ণ’ বলে আখ্যায়িত করেন। এর জবাবে ট্রাম্প তাকে আইকিউ পরীক্ষা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানান।
২০১৭ সালে লন্ডন ব্রিজে সন্ত্রাসী হামলার পরও দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। হামলার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, লন্ডনের মেয়র জনগণকে ‘উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই’ বলেছেন। তবে বাস্তবে সাদিক খান বলেছিলেন, হামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
এদিকে সংবাদ সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদিক খান ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। সদ্য প্রধানমন্ত্রী হওয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে তার বর্তমান দায়িত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বার্নহ্যামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সফল হবেন বলে তার বিশ্বাস।
একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণায় দুঃখ প্রকাশ করেন। সাদিক খানের মতে, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর লেবার পার্টিকে পুনর্গঠনে স্টারমারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছেন।