রাজনীতি

লন্ডনে বজ্রপাতের কারণে হিথরো এবং গ্যাটউইক বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত

15886_55f4a000-7219-11f1-b1db-af71d47507d6 Large.jpg

তীব্র তাপপ্রবাহের পর যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বজ্রঝড়ের প্রভাবে লন্ডনের হিথ্রো ও গ্যাটউইক বিমানবন্দরে ব্যাপক বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শনিবার দুই বিমানবন্দর মিলিয়ে প্রায় ৮০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং কয়েক ডজন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দিনের বাকি সময়ও এই বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হিথ্রো বিমানবন্দরে অন্তত ৩৭৭টি এবং গ্যাটউইকে ৩৯৯টি আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। কিছু ফ্লাইটের বিলম্ব কয়েক ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে। হিথ্রোর তথ্য অনুযায়ী, চিলির সান্তিয়াগো থেকে আসা ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট সকাল ১০টায় অবতরণের কথা থাকলেও সেটি রাত ৯টার আগে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই।

ইউরোপের বিমান চলাচল সমন্বয়কারী সংস্থা ইউরোকন্ট্রোল জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড থেকে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত আকাশপথে বজ্রঝড়ের কারণে সবচেয়ে বেশি বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঝড় এড়াতে অনেক বিমানকে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন ফ্লাইটের সময়সূচিতে ধারাবাহিক প্রভাব পড়ছে। তবে এই অঞ্চলের বাইরে পরিচালিত অধিকাংশ ফ্লাইট স্বাভাবিক রয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের অন্যান্য বিমানবন্দরে উল্লেখযোগ্য কোনো বিঘ্ন দেখা যায়নি।

ন্যাটস জানায়, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে পূর্বাভাস অনুযায়ী তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর স্পেন থেকে দক্ষিণ সুইডেন পর্যন্ত বিস্তৃত উষ্ণ ও অস্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলের কারণে আরও বজ্রঝড় সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যদিও সেগুলো ঠিক কোথায় এবং কখন আঘাত হানবে, সে বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বজ্রঝড়ের এই পরিস্থিতির আগে শুক্রবার যুক্তরাজ্যে রেকর্ড তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। সাফোকে ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা দেশটির ইতিহাসে জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় রোববার সকাল পর্যন্ত চরম তাপপ্রবাহের জন্য অ্যাম্বার সতর্কতা বহাল রয়েছে।

বিমান বিলম্ব ও বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ইতালির ভেনিস বিমানবন্দরে আটকে পড়া ২৯ বছর বয়সী যাত্রী অ্যাডাম জোসেফ জানান, গ্যাটউইকগামী তার ফ্লাইট চার ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হয়েছে, কারণ লন্ডন থেকে আসা সংশ্লিষ্ট বিমানটি এখনও ভেনিসে পৌঁছায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, যাত্রীদের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ রাখা হয়নি এবং দীর্ঘ বিলম্ব সত্ত্বেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আরোপিত বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ফলে তাদেরও ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

অন্যদিকে গ্যাটউইক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে চলমান বজ্রঝড় এবং সাময়িক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত ও বাতিল হয়েছে। হিথ্রো বিমানবন্দরও যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী অভিযোগ করেন, তার মেয়ে গ্যাটউইক বিমানবন্দরে একটি ইজিজেটের বিমানে চার ঘণ্টা বসে থাকার পর জানতে পারেন ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। জবাবে ইজিজেট জানায়, বজ্রঝড়ের কারণে গ্যাটউইকে বিমান ওঠানামার সংখ্যা সীমিত হয়ে যাওয়ায় আগাম কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইট, অর্থ ফেরত, প্রয়োজনে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং খাবারের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও