
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে আরেক দফা হিটওয়েভের পূর্বাভাসের মধ্যে বৈদ্যুতিক পণ্য বিক্রেতা কারিজ (Currys) সতর্ক করেছে যে বাজারে ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনারের সরবরাহ চাপে পড়েছে। সাম্প্রতিক হিটওয়েভে এসব পণ্যের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
কারিজের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স বালডক জানান, গত জুনে ইংল্যান্ডে রেকর্ড গরমের সময় ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনারের বিক্রি অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যায়। সর্বশেষ তাপপ্রবাহের সপ্তাহান্তে ফ্যানের বিক্রি আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৩ হাজার শতাংশ বৃদ্ধি পায়, আর এয়ার কন্ডিশনারের বিক্রি বেড়ে যায় ৩৩০ শতাংশ।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পর্যাপ্ত পণ্য মজুত রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে, তবে বর্তমানে সরবরাহ পরিস্থিতি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। বাজারে শীর্ষ অবস্থানে থাকার কারণে কারিজই তুলনামূলকভাবে বেশি পণ্য সংগ্রহ করতে পারছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ২ মে শেষ হওয়া অর্থবছরে কারিজের মোট বিক্রি ৬ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কর-পূর্ব মুনাফা ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫৩ মিলিয়ন পাউন্ড হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান স্টোরগুলোর বিক্রিও ৩ শতাংশ বেড়েছে, যদিও সামগ্রিক বাজারে চাহিদা কিছুটা কম ছিল। কফি মেশিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ল্যাপটপ, মেরামত ও ইনস্টলেশন সেবা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য পণ্য সরবরাহ সম্প্রসারণের ফলে এই প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যালেক্স বালডক বলেন, মে মাসের পর থেকেও বিক্রির ধারা শক্তিশালী রয়েছে। বিশেষ করে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে বড় আকারের টেলিভিশন, বারবিকিউ সরঞ্জাম, বিয়ার পাম্প ও হট টাবের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ৯০ ইঞ্চি টেলিভিশনের বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, ইংল্যান্ড ও নরওয়ের ভালো পারফরম্যান্সের জন্য তারা সমর্থন করছেন, কারণ বড় ক্রীড়া আসর বিক্রিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর ডেটা সেন্টারের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী সিলিকন চিপের সংকট তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বালডক। এর ফলে কিছু পণ্যের দামে মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়া প্রায় অনিবার্য বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি জানান, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের পর্যাপ্ত সরবরাহ অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কম রাখতে কারিজ কাজ করে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন কারিজের প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে খুচরা ব্যবসা এবং হাই স্ট্রিটের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যা ইতিবাচক উদ্যোগ। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি নিয়োগকর্তাদের জাতীয় বীমা (ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স) অবদানের বৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
বালডকের দাবি, ২০২৪ সালের অক্টোবরের বাজেটে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ফলে কারিজে একজন খণ্ডকালীন কর্মী নিয়োগের ব্যয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। নতুন কর্মী নিয়োগকে সহজ ও কম ব্যয়বহুল করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় খুচরা বিক্রেতাদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান যেমন শেইন (Shein) ও টেমু (Temu) কম মূল্যের আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে যে কর-সুবিধা পেয়ে আসছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করা উচিত। যদিও যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ইতোমধ্যে এই শুল্ক-ছাড় সুবিধা বাতিলের সময়সীমা ছয় মাস এগিয়ে এনে ২০২৮ সালের অক্টোবর নির্ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যসেবা প্রতিষ্ঠান বুটস (Boots)-এর প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে এটিই অ্যালেক্স বালডকের নেতৃত্বে কারিজের শেষ বার্ষিক আর্থিক ফলাফল।