
ব্রিটেনের বিতর্কিত রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসরের দেওয়া ‘পিৎজা এক্সপ্রেস অ্যালিবাই’ নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়েছিল রেস্তোরাঁ চেইন পিৎজা এক্সপ্রেস। বিবিসি নিউজনাইটের এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
২০১৯ সালে বিবিসি নিউজনাইটকে দেওয়া বহুল আলোচিত সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ ওঠা দিনের সন্ধ্যায় তিনি সারে অঞ্চলের ওকিং শহরের পিৎজা এক্সপ্রেস শাখায় ছিলেন। তবে বিবিসির সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তার ওই দাবির সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চালালেও তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বা যাননি, এমন কোনো প্রমাণই পাওয়া যায়নি।
বিবিসি জানিয়েছে, ২০০১ সালের ওই রাতে অ্যান্ড্রুকে রেস্তোরাঁটিতে দেখেছেন, এমন কোনো কর্মী বা গ্রাহকের সন্ধানও মেলেনি।
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তিনি সব সময়ই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
সম্প্রতি জেফরি অ্যাপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্র নতুন করে আলোচনায় আসার পর বিবিসি নিউজনাইট ২০১৯ সালের সাক্ষাৎকারটি পুনরায় পর্যালোচনা করে। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে থেমস ভ্যালি পুলিশ তাকে পাবলিক অফিসে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তাকে তদন্তাধীন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
অ্যাপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের একজন ভার্জিনিয়া জিউফ্রে অভিযোগ করেছিলেন, অ্যান্ড্রু তাকে তিনবার যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন। এর মধ্যে একটি ঘটনা ঘটে ২০০১ সালের ১০ মার্চ, যখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। জিউফ্রের ভাষ্য, ওইদিন তিনি অ্যান্ড্রুর সঙ্গে খাবার খান, একটি নাইটক্লাবে নাচেন এবং পরে গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের লন্ডনের বাসভবনে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য হন।
তবে ২০১৯ সালের সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু দাবি করেন, ওইদিন বিকেল ৪টা বা ৫টার দিকে তিনি কন্যা প্রিন্সেস বিয়াট্রিসকে নিয়ে ওকিংয়ের পিৎজা এক্সপ্রেসে একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন এবং পরে বাসায় ফিরে যান।
সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সম্প্রচার না হলেও সেখানে তিনি আরও বিস্তারিতভাবে পিৎজা এক্সপ্রেসে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তার কর্মীরা ডায়েরি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
অ্যান্ড্রুর ভাষ্য ছিল, আমি বিয়াট্রিসকে নিয়ে ওকিংয়ের পিৎজা এক্সপ্রেসে গিয়েছিলাম। আমার স্টাফরা ডায়েরি এবং অন্যান্য তথ্য দেখে বিষয়টি বের করেছে।
বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বিষয়টি জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে পিৎজা এক্সপ্রেসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেন। তারা পুরোনো নথিপত্র খুঁজে দেখেন এবং সে সময়ের সাবেক কর্মী ও স্থানীয় ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
তবে ২০০১ সালে ওকিং শাখার দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক তখন আর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন না। ফলে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত শেষে পিৎজা এক্সপ্রেস সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, ‘অ্যান্ড্রুর দাবি সত্য’ এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। আবার তিনি সেখানে যাননি, এমন প্রমাণও মেলেনি।
এদিকে বিবিসি মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছেও জানতে চেয়েছিল, ২৫ বছর আগে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে কোনো রাজকীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওকিংয়ে গিয়েছিলেন কি না। তবে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা ওই আবেদনের জবাবে পুলিশ জানায়, তারা এ বিষয়ে ‘নিশ্চিত বা অস্বীকার’ কোনোটিই করবে না।
মেট্রোপলিটন পুলিশের এ অবস্থানের সমালোচনা করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ‘নিশ্চিতও নয়, অস্বীকারও নয়’ ধরনের উত্তর দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ২৫ বছর আগে অ্যান্ড্রুর পুলিশি নিরাপত্তা ছিল; এ তথ্য প্রকাশ করলে কীভাবে তা সন্ত্রাসীদের সহায়তা করবে, আমি তা বুঝতে পারছি না।
উল্লেখ্য, ভার্জিনিয়া জিউফ্রে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ৪১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন।
২০২২ সালে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ অ্যান্ড্রুর সামরিক উপাধি ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রত্যাহার করেন। পরে গত বছর তার ‘প্রিন্স’ উপাধিও কেড়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের মুখে তিনি রয়্যাল লজ থেকেও সরে যান।
সব অভিযোগ বরাবরের মতো এবারও অস্বীকার করেছেন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর।