যুক্তরাজ্য

Guardian
৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০৭
আরও খবর

২৬ বছর ব্রিটেনে বসবাসের পরও ডিপোর্টেশনের মুখে এক ব‍্যাক্তি!

15967_IMG_6826.jpeg

দীর্ঘ ২৬ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাস, নিজস্ব ব্যবসা, ব্রিটিশ সঙ্গী এবং পাঁচ ব্রিটিশ সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও জামাইকান নাগরিক মার্ক নেলসনকে ডিপোর্টেশনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত সপ্তাহে ঘোষিত নতুন অভিবাসন বিলের আওতায় এটি প্রথম দিকের আলোচিত মামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৪৬ বছর বয়সী মার্ক নেলসন ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন এবং পরে একটি গাড়ি মেরামতের ব্যবসা গড়ে তোলেন। তবে ২০১৭ সালে গাঁজা চাষের অপরাধে তিনি চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। নেলসনের দাবি, ব্যবসায় আর্থিক সংকট দেখা দেওয়ার পর বাধ্য হয়ে তিনি ওই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। কারাভোগের পর তিনি আর কোনো অপরাধে জড়াননি।

২০২২ সালে তিনি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে জানান, ছোটবেলায় যেসব প্রপিতামহ ও প্রপিতামহী তাকে লালনপালন করেছিলেন, তাদের মৃত্যুর পর থেকে জামাইকায় তার আর কোনো ঘনিষ্ঠ স্বজন নেই। ফলে সেখানে ফিরে গেলে তার জন্য নতুন করে জীবন শুরু করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

এক পর্যায়ে তার ডিপোর্টেশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলেও তাকে ইলেকট্রনিক ট্যাগ পরিয়ে নিয়মিত হোম অফিসের রিপোর্টিং সেন্টারে হাজিরা দিতে বলা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নির্ধারিত হাজিরা দিতে গেলে তাকে আটক করা হয় এবং জানানো হয়, সরকার তাকে জামাইকায় ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে থেকে নেলসন বলেন, ডিপোর্টেশনের আশঙ্কায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, জীবনে প্রথমবারের মতো বিষণ্নতা প্রতিরোধী ওষুধ গ্রহণ করতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যরাও চরম উদ্বেগ ও মানসিক কষ্টে রয়েছেন।

তিনি বলেন, তার পাঁচ সন্তানকে ছেড়ে যাওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারেন না। নিজের অতীতের ভুলের কথা সন্তানদের জানিয়ে তিনি তাদের সঠিক পথে চলার শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

নেলসনের সঙ্গী র‍্যাচেল ডার্বিশায়ার বলেন, হোম অফিস বিষয়টি ছেড়ে দিতে রাজি নয়। তার ভাষায়, “মার্ক একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তাকে এমনভাবে আচরণ করা হচ্ছে, যেন তিনি একজন ভয়ংকর সহিংস অপরাধী।”

সম্প্রতি ঘোষিত যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন বিলে ডিপোর্টেশন সংক্রান্ত মানবাধিকার আইনের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ, অর্থাৎ পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার বিবেচনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান আইনে কোনো ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংযুক্তি, জন্মভূমিতে পুনর্বাসনের বাস্তব বাধা এবং পরিবারের ওপর বহিষ্কারের প্রভাবের মতো বিষয় বিবেচনার সুযোগ থাকলেও, নেলসনের দীর্ঘদিনের বসবাস ও পারিবারিক সম্পর্ক সত্ত্বেও সরকার তাকে ডিপোর্টেশনের সিদ্ধান্তে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “যুক্তরাজ্যে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সব বিদেশি অপরাধীকেই যত দ্রুত সম্ভব ডিপোর্টেশনের জন্য প্রক্রিয়ায় আনা হয়।”

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৭০ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।


 

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও