
উত্তর আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি টাইরোনে একটি ঐতিহ্যবাহী অগ্নিকুণ্ডের (বনফায়ার) ওপর মসজিদের প্রতিরূপ স্থাপনকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় মুসলিমবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগে ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে কাউন্টি টাইরোনের ময়গাশেল (Moygashel) এলাকায়। সেখানে কাঠের প্যালেট দিয়ে তৈরি একটি বিশাল বনফায়ারের চূড়ায় একটি প্রতীকী মসজিদের কাঠামো স্থাপন করা হয়। সেই কাঠামোতে ‘আমাদের সীমান্ত নিরাপদ করুন’, ‘উগ্র ইসলামের হুমকি বন্ধ করুন’ এবং ‘ইসলামিক ফ্যাসিজম’ লেখা ব্যানারও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার ওই বনফায়ারে আগুন দেওয়ার কথা ছিল।
উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশ (PSNI) জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তের পর জনশৃঙ্খলা আইনের অধীনে ঘৃণা উসকে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
প্রতি বছর ১২ জুলাই অরেঞ্জ অর্ডারের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে এ ধরনের বনফায়ার নির্মাণ ও প্রজ্জ্বলনের ঐতিহ্য রয়েছে। এটি ১৬৯০ সালে বয়নের যুদ্ধে প্রোটেস্ট্যান্ট রাজা তৃতীয় উইলিয়াম অব অরেঞ্জের ক্যাথলিক রাজা দ্বিতীয় জেমসের বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়। তবে অতীতেও এসব বনফায়ারে আইরিশ পতাকা পোড়ানো, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতীক, অভিবাসীবিরোধী ব্যানার এবং বিতর্কিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনের কারণে সমালোচনা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উত্তর আয়ারল্যান্ড শাখার পরিচালক প্যাট্রিক করিগান। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী মুসলিমবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট চেষ্টা এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করে।
সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যান্ড লেবার পার্টির (SDLP) কাউন্সিলর কার্ল হোয়াইটও ঘটনাটিকে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, একটি পুরো ধর্ম ও তার অনুসারীদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, ময়গাশেল বনফায়ার অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, এটি কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়; বরং সরকারের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের এই প্রদর্শনী ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ। তারা আরও দাবি করেছে, তাদের আপত্তি কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং ‘অবৈধ ও নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসন’ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতির বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত বছর একই বনফায়ারে অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকার প্রতিকৃতি এবং ‘স্টপ দ্য বোটস’ ব্যানার প্রদর্শন করা হয়েছিল, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া ২০২৪ সালে ওই একই স্থানে একটি নকল পুলিশ গাড়ি স্থাপন করেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
সম্প্রতি উত্তর আয়ারল্যান্ডে অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনা বেড়েছে। বিশেষ করে বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনার পর, যেখানে প্রাথমিকভাবে হামলাকারীকে সুদানের একজন আশ্রয়প্রার্থী বলে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল, এরপর থেকে প্রধানত প্রো-ব্রিটিশ লয়ালিস্ট অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।