
যুক্তরাজ্যে চলমান তাপপ্রবাহ দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, আর সেই সঙ্গে শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে।
ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে একাধিক বড় দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীর পাশাপাশি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা সংস্থা একযোগে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অভাব, উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক ঘাস ও ঝোড়ো বাতাস দাবানল ছড়িয়ে পড়ার জন্য অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যে এ ধরনের তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ঝুঁকি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় দাবানলের ঝুঁকিকে “ব্যতিক্রমী” (Exceptional) পর্যায়ে উন্নীত করেছে। জনগণকে বনাঞ্চল, তৃণভূমি ও খোলা স্থানে আগুন জ্বালানো, বারবিকিউ করা কিংবা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলে দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন যুক্তরাজ্যের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। কিছু অঞ্চলে আরও বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সরকার ও জরুরি সেবা বিভাগ জনগণকে পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজখবর রাখা এবং দাবানল সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান তাপপ্রবাহ এবং দাবানলের ঘটনা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে।