যুক্তরাজ্য

Guardian
১৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৭
আরও খবর

ব্রিটিশ পাসপোর্টের নতুন নিয়মে ৬ সপ্তাহ রোমে আটকে ১৫ বছরের ব্রিটিশ কিশোরী

16064_images.jpeg

যুক্তরাজ্যের নতুন ভ্রমণবিধির কারণে ইতালির রোমে ছয় সপ্তাহ আটকে থাকতে হয়েছে ১৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ কিশোরীকে। দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এই কিশোরী ব্রিটেনে নিজের স্কুলে ফিরতে পারেনি, ফলে টানা ছয় সপ্তাহের ক্লাসও মিস করতে হয়েছে। নতুন এই নীতিকে কেন্দ্র করে হোম অফিসের সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন আরও কয়েকজন ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিক।

কিশোরীটি তার দাদির সঙ্গে দেখা করতে ইতালির রোমে গিয়েছিল। তবে এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। কারণ, ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন হোম অফিস নীতিমালা অনুযায়ী, দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য অবশ্যই বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা ‘সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট’ প্রদর্শন করতে হবে। এই সনদ সংগ্রহের জন্য ৫৮৯ পাউন্ড ফি দিতে হয় এবং এটি দ্বিতীয় দেশের পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

কিশোরীর বাবা, লেখক রোয়ান সোমারভিল অভিযোগ করেন, ব্রিটিশ দূতাবাস, হোম অফিস ও ফরেন অফিসের মধ্যে বারবার যোগাযোগ করেও তারা কোনো কার্যকর সহায়তা পাননি। তিনি বলেন, একটি শিশুর শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, “তারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। একটি শিশুকে স্কুলে ফিরতে না দিয়ে ছয় সপ্তাহ বিদেশে আটকে রাখা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”

সোমারভিল জানান, তার মেয়ের আগে কখনও ব্রিটিশ পাসপোর্ট না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি অস্থায়ী পাসপোর্টও দিতে রাজি হয়নি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে মেয়ের স্কুলও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জো পাওয়েল বিষয়টি হোম অফিসে উত্থাপন করলে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (FCDO) কিশোরীকে একটি জরুরি ভ্রমণ নথি (Emergency Travel Document) প্রদান করে। এর মাধ্যমে তিনি অবশেষে যুক্তরাজ্যে ফিরে আসতে সক্ষম হন।

জো পাওয়েল বলেন, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া বা ব্রিটিশ অভিভাবকের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নতুন নীতির কারণে একজন শিক্ষার্থীকে ছয় সপ্তাহ বিদেশে আটকে থাকতে হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি জানান, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শিক্ষার্থী একই পরিস্থিতির শিকার না হয়, সে বিষয়ে তিনি অভিবাসনমন্ত্রী মাইক ট্যাপের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করবেন।

সোমারভিল আরও অভিযোগ করেন, মেয়ের জন্য ব্রিটিশ পাসপোর্ট সংগ্রহ করতেও তাদের প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে, যদিও সরকারি ওয়েবসাইটে সাধারণভাবে তিন সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তিনি পাসপোর্ট অফিসের সামনের সারির কর্মীদের আন্তরিকতার প্রশংসা করলেও পুরো প্রক্রিয়াকে “আমলাতান্ত্রিক দুঃস্বপ্ন” বলে অভিহিত করেন।

হোম অফিস অবশ্য দাবি করেছে, নতুন নিয়ম সম্পর্কে যথাযথভাবে সরকারি ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। তাদের একজন মুখপাত্র বলেন, কিশোরীকে মে মাসে জরুরি ভ্রমণ নথি দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর মাত্র আট দিনের মধ্যে তার ব্রিটিশ পাসপোর্টও ইস্যু করা হয়।

হোম অফিস আরও জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সব দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিককে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের সময় বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট বহন করতে হবে। এসব নথি না থাকলে এয়ারলাইন, ফেরি বা ট্রেন কর্তৃপক্ষ যাত্রীর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে পারে না, যার ফলে যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে অথবা বোর্ডিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও