
যুক্তরাজ্যের কিছু অংশে বছরের চতুর্থ তাপপ্রবাহ (হিটওয়েভ) শুরু হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য, দাবানল এবং পানির সংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রার পূর্বাভাস
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। লন্ডনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও কয়েকদিন তীব্র গরম অব্যাহত থাকবে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি
অতিরিক্ত গরমের কারণে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে অ্যাম্বার হিট-হেলথ অ্যালার্ট এবং অন্যান্য অঞ্চলে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে। প্রবীণ ব্যক্তি, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত পানি পান, সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে
দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া ও অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফায়ার সার্ভিস জনগণকে খোলা স্থানে বারবিকিউ ব্যবহার না করা, সিগারেটের অবশিষ্টাংশ যেখানে-সেখানে না ফেলা এবং আগুন ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
বৃষ্টির ঘাটতি ও পানির সংকট
চলতি জুলাই মাসে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে কিছু অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষের জন্য হোসপাইপ ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি শুষ্ক আবহাওয়া কৃষি ও জলসম্পদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন এবং দীর্ঘস্থায়ী হিটওয়েভ দেখা দিতে পারে। এ কারণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।