
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় ৪২ বছর বয়সী পরিচর্যাকারী লুইস হ্যারিসকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে এত গুরুতর ঘটনার পরও এত কম সাজা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ৮১ বছর বয়সী এলিজাবেথ অ্যান শিপটনকে একটি আনুষ্ঠানিক পরিচর্যা প্যাকেজের ব্যবস্থা করার আগে পরীক্ষামূলকভাবে চার ঘণ্টার জন্য লুইস হ্যারিসের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল। এটিই ছিল একমাত্র সময়, যখন হ্যারিসকে বৃদ্ধার সঙ্গে একা রাখা হয়েছিল।
দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর অসাবধানতাবশত এলিজাবেথ তার জরুরি ‘লাইফলাইন’ অ্যালার্ম বোতাম চাপলে সংকট সহায়তা কেন্দ্র থেকে ফোন আসে। অপারেটররা বিষয়টি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে জেনে কল শেষ করে দিলেও এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হ্যারিস। তিনি বৃদ্ধাকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।
আদালতে জানানো হয়, হ্যারিস শয্যায় শুয়ে থাকা এলিজাবেথের বুকের ওপর হাত চেপে ধরে বারবার জানতে চান, “তোমার টাকা কোথায়?” বৃদ্ধা ব্যথা লাগছে বলে জানালে তিনি জবাব দেন, “আমি পরোয়া করি না, টাকা কোথায় বলো।”
এরপর তিনি একটি বড় রান্নাঘরের ছুরি হাতে নিয়ে ঘরের ভেতরে তাণ্ডব চালান এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন। পুরো ঘটনাটি বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরায় সরাসরি দেখতে পান এলিজাবেথের মেয়ে ট্রেসি ফারাম। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং হ্যারিসকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, মদ্যপান থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছিলেন হ্যারিস। ট্রেসি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি ঘরে একটি ভদকার বোতল পান এবং প্রলোভনে পড়ে তা পান করেন, যার পরেই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান।
সোয়ানসি ক্রাউন কোর্টের বিচারক হিউ রিস হ্যারিসের আচরণকে “নির্দয় ও নিষ্ঠুর” বলে মন্তব্য করেন। রোগীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করায় তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় ভুক্তভোগীর পরিবার। ট্রেসি ফারাম জানিয়েছেন, সাজা অত্যন্ত কম হয়েছে এবং তিনি এ রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানাবেন। তার ভাষায়, “মাত্র এক মাসের একটু বেশি সময় কারাভোগ করে বেরিয়ে আসবে—এটা বিশ্বাস করা কঠিন। ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা প্রতিদিন এই ঘটনার মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি, আর আমার মায়ের অবস্থাও দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।”