যুক্তরাজ্য

Guardian
২৮ জুলাই ২০২৬, ১৬:০৭
আরও খবর

এআইয়ের ‘ভুয়া তথ্যে’ এসাইলাম আবেদন প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ, হোম অফিসের বিরুদ্ধে বিচারকের কড়া অবস্থান

16196_6000.jpg

যুক্তরাজ্যের হোম অফিস একটি আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য ‘ভুয়া তথ্য’ বা ‘এআই হ্যালুসিনেশন’-এর ওপর নির্ভর করেছে বলে গুরুতর মন্তব্য করেছেন এক জ্যেষ্ঠ বিচারক। তিনি বলেছেন, যদি এমনটি সত্যি হয়ে থাকে, তবে এটি অত্যন্ত গুরুতর প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং অস্তিত্বহীন নথির ওপর নির্ভর করা ভুয়া প্রমাণ ব্যবহারের শামিল।

মামলাটি মরক্কোর এক নারী ও তার সন্তানকে ঘিরে। অল্প বয়সে জোরপূর্বক বিয়ে, ধর্ষণ এবং দীর্ঘদিনের সহিংস নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর তারা যুক্তরাজ্যে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। ওই নারী দাবি করেন, নিজ দেশে ফিরে গেলে প্রভাবশালী ও অপরাধে দণ্ডিত তার স্বামীর হাতে প্রাণ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

তবে হোম অফিস তার আবেদন নাকচ করে জানায়, ‘কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন নোট (সিপিআইএন)’ নামের একটি স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য নথি অনুযায়ী মরক্কো তার জন্য নিরাপদ দেশ। পরবর্তীতে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হলেও প্রথম ধাপের ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালও একই নথির ওপর নির্ভর করে আবেদন খারিজ করে।

এরপর মামলাটি আপার ট্রাইব্যুনালে গেলে বিচারক দেখতে পান, যে নথির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গত ১৪ জুলাই দেওয়া রায়ে তিনি বলেন, এমন কোনো সিপিআইএন সম্ভবত কখনোই প্রকাশিত হয়নি। এমনকি হোম অফিসের নিজস্ব ‘কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিম’-ও নথিটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি।

বিচারক আরও বলেন, হোম অফিসের প্রত্যাখ্যানপত্রে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা দেখে মনে হয় এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে। তার মতে, মরক্কো সম্পর্কিত ২০২১ সালের যে সিপিআইএন নথির উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি হয়তো এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ বা বাস্তবে অস্তিত্বহীন তথ্য তৈরি করার ফল। যদি সেটিই হয়ে থাকে, তবে এটি হোম অফিসের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুতর ব্যর্থতা।

তিনি মন্তব্য করেন, যে নথির অস্তিত্বই নেই, তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত দেওয়া ভুয়া প্রমাণ ব্যবহারের সমতুল্য এবং এটি একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত অনিয়ম।

এদিকে দ্য গার্ডিয়ান হোম অফিসের কাছে ওই নথি চাইলেও তারা প্রথমে এমন একটি সংরক্ষণাগারের লিংক দেয়, যেখানে নথিটি পাওয়া যায়নি। পরে তারা ভিন্ন একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা ‘কান্ট্রি ইনফরমেশন নোট (সিআইএন)’ উপস্থাপন করে। তবে মরক্কো নিয়ে সর্বশেষ প্রকাশিত সিপিআইএন ছিল ২০১৭ সালে।

মামলার নথিতে দেখা যায়, হোম অফিস পরবর্তীতে সিআইএনের পরিবর্তে সিপিআইএনের উল্লেখ করতে শুরু করে, যদিও আদালতে অভ্যন্তরীণ ওই নথিটি উপস্থাপনই করা হয়নি। অথচ সেই অভ্যন্তরীণ নথিতেই উল্লেখ রয়েছে, মরক্কোয় এখনো বিপুলসংখ্যক শিশুবিবাহের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং বৈবাহিক ধর্ষণকে দেশটির আইন স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ধর্ষণের অভিযোগ করা নারীদের অনেক ক্ষেত্রে উল্টো বিয়ের বাইরে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রতিটি আবেদন সর্বশেষ তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়, যাতে প্রকৃত সুরক্ষাপ্রার্থীরাই যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পান।

মরক্কোর ওই নারী ও তার সন্তানের আশ্রয় আবেদন সংক্রান্ত মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও