
ইংল্যান্ডের দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা সামাজিক সেবা (Social Care) ব্যবস্থার সংস্কারে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হলে কর বৃদ্ধি করা হতে পারে—এমন সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, নতুন কর আরোপের আগে বিদ্যমান ব্যবস্থার অপচয় ও অদক্ষতা দূর করার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
বুধবার সামাজিক সেবা সংস্কার নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, ইংল্যান্ডের বর্তমান সামাজিক সেবা ব্যবস্থা বহু বছর ধরে অবহেলিত এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিকভাবে অন্যায্য। অনেক পরিবারকে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার খরচ মেটাতে নিজেদের সঞ্চয় বা বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়, যা তিনি একটি “অন্যায্য ব্যবস্থা” বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার সামাজিক সেবা খাতের ব্যাপক সংস্কারের জন্য একটি দ্রুতগতির পর্যালোচনা শুরু করেছে। এই পর্যালোচনার নেতৃত্ব দেবেন সমাজনীতি বিশেষজ্ঞ লুইস কেসি। এর পাশাপাশি “Big Conversation on Care” নামে একটি জাতীয় জনপরামর্শ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে, যাতে নাগরিক, সেবাকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে।
কর বাড়ানোর প্রশ্নে সাংবাদিকদের জবাবে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি এখনই কোনো সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে চান না। তবে সরকারের প্রথম লক্ষ্য হবে বিদ্যমান বাজেটের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কোথায় অপচয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা। এরপরও যদি অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয়, তাহলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক সেবা কর্মীদের বেতন, প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশ উন্নত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সামাজিক সেবা ব্যবস্থাকে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS)-এর সঙ্গে আরও সমন্বিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে রোগীরা দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পান।
অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি সামাজিক সেবা সংস্কার নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, কর বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে এ সংস্কারের অর্থায়নের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, নতুন কর আরোপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইংল্যান্ডে জনসংখ্যার বার্ধক্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার চাহিদা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সেবা খাতে অর্থের ঘাটতির কারণে ব্যাপক সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি। তবে এই সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য টেকসই অর্থায়নের উৎস নির্ধারণই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।