যুক্তরাজ্য

Mirror
৩১ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৭
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে তীব্র তাপদাহে ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকিতে বেশ কয়েকটি এলাকা!

16228_aaa.jpeg

তীব্র তাপদাহ ও দীর্ঘদিনের স্বল্প বৃষ্টিপাতের কারণে যুক্তরাজ্যে দাবানলের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের অর্ধেক অঞ্চলকে খরাপ্রবণ (ড্রট) ঘোষণা করেছে পরিবেশ সংস্থা (Environment Agency)। এরই মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র Sizewell B Nuclear Power Station-এর কাছাকাছি ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সাফোক ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, ডানউইচ হিথ (Dunwich Heath) এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। রাতভর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে আগুনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

মুরল্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন (Moorland Association)-এর তথ্যভিত্তিক নতুন ঝুঁকির মানচিত্রে দেখা গেছে, দাবানলের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ডার্বিশায়ারের হাই পিক (High Peak) এলাকা। এর পরেই রয়েছে ক্যালডার ভ্যালি (Calder Valley) এবং টিভারটন ও মাইনহেড (Tiverton and Minehead) অঞ্চল। এছাড়া পশ্চিম ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের বিস্তীর্ণ এলাকাও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক দাবানল দেখা দিয়েছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের ডোভস্টোন, ডার্বিশায়ারের টিন্টউইসল মুর এবং স্কটল্যান্ডের কেয়ার্নগর্মস ন্যাশনাল পার্ক-এ দমকল বাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয়েছে।

পরিবেশ সংস্থার খরা ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যের পানি বিষয়ক মন্ত্রী Emma Hardy সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন পরিস্থিতিই এখন নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে। নদ-নদীর পানি কমে যাচ্ছে, লাখো মানুষ হোসপাইপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন এবং একই সঙ্গে বাড়ছে দাবানলের ঝুঁকি।

দাবানলের কারণ নিয়ে অবশ্য মতভেদ রয়েছে। মুরল্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রধান নির্বাহী Andrew Gilruth দাবি করেছেন, অতিরিক্ত রিওয়াইল্ডিং বা প্রাকৃতিকভাবে ভূমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগে দাহ্য উদ্ভিদ বেড়ে যাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী Andy Burnham-এর প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে Rebecca Wrigley, প্রধান নির্বাহী, Rewilding Britain, এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, দাবানলের মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের অবক্ষয়। তিনি বলেন, জলাভূমি, পিটল্যান্ড এবং দেশীয় বনভূমি পুনরুদ্ধার করলে ভূমিতে আর্দ্রতা বাড়বে, যা ভবিষ্যতে দাবানল প্রতিরোধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।

এদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও দাবানল পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যেও দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও