বাংলাদেশ

মাত্র ১৮ মাস বয়সেই এশিয়া বুক অব রেকর্ডসে বাংলাদেশের শেহজাদ

16229_IMG_8785.jpeg

যে বয়সে শিশুরা সাধারণত হাঁটতে ও আধো আধো কথা বলতে শেখে, সেই ১৮ মাস বয়সেই ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’ খেতাব দিয়েছে এশিয়া বুক অব রেকর্ডস।

বলছিলাম পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির বালক মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিলের কথা। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাবা-মায়ের নিয়মিত অনুশীলন ও উৎসাহে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা অর্জন করেছে শিশু শেহজাদ।

২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর খাগড়াছড়ি সদরের মাইনী ভ্যালিতে মো. ইব্রাহিম খলিল ও তানিয়া আক্তার দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিলের মা-বাবা ছয় মাস বয়স থেকেই তারা সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করেন। শুরুতে কোনো সাড়া না দিলেও ধীরে ধীরে ইংরেজি শব্দ ও বাক্য আয়ত্ত করতে শুরু করে শিশুটি। শুধু সাধারণ কথোপকথনই নয়, শেহজাদ ইংরেজি, ছড়া আবৃত্তি, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং বিভিন্ন দৈনন্দিন বাক্যও সাবলীলভাবে বলতে পারে।

পেশায় ফ্রিল্যান্সার শেহজাদের বাবা মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, যখন ওর ৬ মাস বয়স, তখন থেকেই আমরা প্ল্যান করে ওর আশপাশে সব সময় ইংরেজি বলতাম। কারণ আমরা জানতাম, যখন কিছু বলব, তখন সে শুনবে। আর এভাবেই আমরা চলতে থাকি। আমরা বাংলায় কথা না বলে, ইংরেজিতেই বলতাম। এভাবে বলতে বলতে দেখলাম শেহজাদ আসলে ইংলিশটা খুব সুন্দরভাবে ধরে ফেলছে।

সন্তানের প্রতিভা যাচাইয়ের জন্য তারা শেহজাদের ১৫ মাস বয়সে ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এ ৮টি ভিডিও পাঠান। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন শেষে সংস্থাটি মাত্র ১৮ মাস বয়সেই শেহজাদকে ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।

 

 

 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পেলে শেহজাদ অনেক দূর যাবে। এশিয়া বুক অব রেকর্ডসের এই সম্মাননা আমাদের সেই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে সে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করুক।

 

 

শুরু থেকেই তারা সন্তানকে ইংরেজি পরিবেশে বড় করার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও সন্তানকে ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে চান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগও খুঁজবেন।

 

 

শেহজাদের মা তানিয়া খলিল বলেন, ওর ইংরেজি শব্দগুলো বলা আমাদের মোটিভেট করে, আমরা আরও ইন্সপায়ার হই যে, এটা কন্টিনিউ করা যায়। এরপর যখন ওর ১৪, ১৫ মাস বয়স হয়, মোটামুটি ও বাসার যত অ্যাক্সেসরিজ আছে, তারপর বিভিন্ন প্রাণীর নাম, ফলের নাম, ভেজিটেবলস, ঘরের সব অ্যাক্সেসরিজ সবকিছুই ও ইংরেজিতে আইডেন্টিফাই করতে পারত। আমরা কোনো সেন্টেন্স বললে সহজেই ওটা বুঝতে পারত। তখন আমাদের কাছে এ বিষয়টা একটু ইউনিক মনে হয়েছে। সন্তানের এ অর্জন আমাদের জন্য অনেক গর্বের ছিল। এত ছোট বয়সে এই স্বীকৃতি আমাদের গর্বিত করেছে। ও ভালো মানুষ হোক, এটাই আমাদের বড় চাওয়া। পাশাপাশি ওর ইংরেজির চর্চাটা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব।

 

 

শুধু পরিবার নয়, খুদে এই শিশুর আন্তর্জাতিক অর্জনে গর্বিত প্রতিবেশীরাও। এত অল্প বয়সে এমন মেধা আর ভাষাগত দক্ষতা সত্যিই বিরল মন্তব্য করে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শেহজাদের জন্য আমরা সবাই গর্বিত। সে দেশের জন্য আরও বড় সম্মান বয়ে আনুক এই প্রত্যাশা করি।

 

 

আরেক প্রতিবেশী মনিষা দেওয়ান বলেন, শেহজাদ শুধু খাগড়াছড়ির নয়, সে এখন আমাদের পাহাড়ের গর্ব। তার এই সাফল্যে স্বজন-প্রতিবেশীসহ পুরো খাগড়াছড়ির মানুষ আনন্দিত। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও