
গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়ি ফাঁকা রেখে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে বের হওয়ার আগে আপনার বাড়ির বার্গলার অ্যালার্ম সংক্রান্ত নিয়মগুলো জেনে নেওয়া জরুরি। কারণ, নির্দিষ্ট আইন না মানলে ফিরে এসে শুধু ভাঙা দরজাই নয়, ডাকযোগে £১,০০০ পর্যন্ত জরিমানার নোটিশও পেতে পারেন।
যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বার্গলার অ্যালার্ম বেজে চলা প্রতিবেশীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় বাড়ির মালিক ছুটিতে থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অ্যালার্ম বন্ধ করার কেউ থাকেন না। এতে আশপাশের মানুষের ঘুম, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং প্রতিবেশী সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি সেবার সম্পদও অযথা ব্যয় হয়।
আইন প্রতিষ্ঠান Lyons Davidson Solicitors জানিয়েছে, এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ তাদের আশপাশে বেজে চলা বাড়ির অ্যালার্মকে ভুয়া বলে ধরে নেন। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই এসব অ্যালার্ম প্রকৃত চুরির ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে অকারণে বাজতে থাকে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকার ক্লিন নেইবারহুডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৫ প্রণয়ন করে। এ আইনের আওতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত অ্যালার্ম নোটিফিকেশন এরিয়া-তে নতুন বার্গলার অ্যালার্ম স্থাপন করলে ২৮ দিনের মধ্যে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কীহোল্ডার বা চাবিধারীর তথ্য স্থানীয় কাউন্সিলে জমা দিতে হয়।
আইন অনুযায়ী, ওই কীহোল্ডারকে বাড়ির কাছাকাছি বসবাস করতে হবে, অ্যালার্ম বন্ধ করার প্রয়োজনীয় তথ্য ও চাবি থাকতে হবে এবং তিনি দায়িত্ব নিতে সম্মত হতে হবে। আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে বাড়ির মালিক নিজে এই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি হতে পারবেন না।
যদি কোনো অ্যালার্ম টানা ২০ মিনিট বা এক ঘণ্টার মধ্যে বারবার বেজে চলে এবং সেটি বন্ধ করার কেউ না থাকে, তাহলে স্থানীয় কাউন্সিল আইনি ক্ষমতাবলে তালা ভেঙে বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে অ্যালার্ম বন্ধ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে তালা মিস্ত্রি বা ঠিকাদারের খরচও সম্পত্তির মালিকের কাছ থেকেই আদায় করা হতে পারে।
এ ছাড়া, নির্ধারিত নিয়ম মেনে কীহোল্ডারের তথ্য নিবন্ধন না করলে সর্বোচ্চ £১,০০০ পর্যন্ত নির্ধারিত জরিমানা (Fixed Penalty Notice) দেওয়া হতে পারে। এই বিধান আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
আপনার বাড়ি অ্যালার্ম নোটিফিকেশন এরিয়ার আওতায় পড়ে কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের পরিবেশ স্বাস্থ্য (Environmental Health) বিভাগের ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
একই সঙ্গে কন্ট্রোল অব পলিউশন অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর আওতায় নির্মাণকাজের শব্দদূষণ নিয়েও কঠোর বিধান রয়েছে। এ আইনে সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে উচ্চ শব্দে নির্মাণকাজ সীমিত করা হয়েছে। এই আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২০১৯ সালে ব্রিস্টলের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে ১২টি শব্দদূষণের অভিযোগে £২৭,১৬৮.২৮ জরিমানা করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছুটিতে যাওয়ার আগে বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অ্যালার্ম সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতাও মেনে চলা উচিত। এতে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা, প্রতিবেশীদের ভোগান্তি এবং বড় অঙ্কের জরিমানার ঝুঁকি; সবই এড়ানো সম্ভব।