
যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় সুপারমার্কেট চেইন মরিসন্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্মার্ট ট্রলি চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে। ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে শত শত চাকরি ঝুঁকিতে ফেলার মধ্যেই আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে কর্মী ও ক্রেতাদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মরিসন্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনস্টাকার্ট–এর সঙ্গে যৌথভাবে তিন মাসের জন্য একটি শাখায় ৩০টি ‘ক্যাপার কার্ট’ (Caper Cart)পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এআইচালিত এসব ট্রলিতে রয়েছে বিল্ট-ইন ক্যামেরা, সেন্সর, ফল ও সবজি ওজন করার ডিজিটাল স্কেল এবং একটি টাচস্ক্রিন, যেখানে কেনাকাটার সঙ্গে সঙ্গে মোট বিলের পরিমাণ দেখা যায়।
নতুন ব্যবস্থায় ক্রেতারা দোকানে ঘুরে কেনাকাটা করার সময়ই পণ্য ব্যাগে ভরে নিতে পারবেন। কেনাকাটা শেষে ট্রলির স্ক্রিনে প্রদর্শিত বারকোড স্ক্যান করেই মূল্য পরিশোধ করা যাবে, ফলে আলাদা করে পণ্য বের করে স্ক্যান করার প্রয়োজন হবে না।
তবে এই প্রযুক্তি চালুর ঘোষণার পরই অনলাইনে শুরু হয়েছে সমালোচনা। নিজেকে মরিসন্সের একজন কর্মী দাবি করে এক ব্যক্তি বলেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় তাকে একাই পুরো শিফটে কাজ করতে হয়। তার প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই কি প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত?
আরেকজন ক্রেতা মন্তব্য করেন, “আমাদের প্রয়োজন ভালো বেতনের কর্মী, পরিপূর্ণভাবে সাজানো তাক এবং সচল ফ্রিজ। এআই ট্রলি নয়।”
বর্তমানে মরিসন্সের প্রধান নির্বাহী রামি বাইতিয়েহ ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছেন। এর অংশ হিসেবে ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে প্রধান কার্যালয়ের প্রায় ২০০টি পদ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ৫২টি ক্যাফে, ১৮টি মার্কেট কিচেন ক্যান্টিন, ১৩টি ফুলের দোকান, ৩৫টি মাংসের কাউন্টার এবং ৩৫টি মাছের কাউন্টার বন্ধের পরিকল্পনা করেছে। এতে আরও ৩৬৫টি চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে। একই সঙ্গে লোকসানে থাকা প্রায় ১০০টি কনভেনিয়েন্স স্টোর, যার বেশিরভাগই সাবেক ম্যাককল’স শাখা, বন্ধের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।
অবশ্য মরিসন্সের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এটি কেবল একটি শাখায় সীমিত পরিসরের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি কর্মীদের জন্য নতুন বেতন চুক্তি করেছে এবং স্টোর রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান, গ্রাহকসেবা এবং বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, মরিসন্সের এই উদ্যোগ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।