
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে চাঞ্চল্যকর ঘটনা: মৃত মায়ের দেহ ফ্রিজে লুকিয়ে রেখে পেনশন ও সরকারি ভাতা নেওয়ার অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী ছেলের জেল
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মৃত মায়ের মরদেহ প্রায় তিন বছর ধরে বাড়ির ফ্রিজারে লুকিয়ে রেখে তার সরকারি সুবিধার টাকা তুলতে থাকা এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
৬০ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ফিলিপস তার ৮৯ বছর বয়সী মা সিলভিয়া ফিলিপসের মৃত্যুর খবর গোপন করে মোট ৭৮ হাজার ১৯০ পাউন্ডের বেশি সরকারি অর্থ গ্রহণ করেন। মায়ের মরদেহ যথাযথভাবে দাফনের ব্যবস্থা না করা এবং সুবিধা জালিয়াতির অভিযোগে তাকে দুই বছর চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ওয়েলসের পোর্টকলে নিজের বাড়িতে প্রায় তিন বছর ধরে মায়ের মরদেহ একটি চেস্ট ফ্রিজারের মধ্যে রেখেছিলেন ফিলিপস। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তার মায়ের খোঁজ নিতে বাড়িতে গেলে এই ভয়াবহ ঘটনা সামনে আসে।
আদালতে জানানো হয়, সিলভিয়া ফিলিপস ২০২৩ সালের ৮ মার্চ মারা যান। তবে তার মৃত্যুর খবর ছেলে ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেন। মৃত্যুর পর তিনি একটি ফ্রিজার কিনে বসার ঘরের মধ্যে মায়ের মরদেহ সংরক্ষণ করেন।
পুলিশ যখন মরদেহটি উদ্ধার করে, তখন সেটি একটি চিতাবাঘের ছাপের কম্বল দিয়ে ঢাকা ছিল। পাশে রাখা ছিল গোলাপ ফুল এবং একটি জন্মদিনের কার্ড, যেখানে লেখা ছিল— “মাকে, ক্রিস্টোফার এবং টিনা’র পক্ষ থেকে।” টিনা ছিল পরিবারের পোষা কুকুরের নাম।
আদালত জানতে পারে, ফিলিপস তার মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (DWP) এবং ব্রিজেন্ড কাউন্সিলকে জানাননি। ফলে তার মায়ের নামে রাষ্ট্রীয় পেনশন, পেনশন ক্রেডিট, অ্যাটেনডেন্স অ্যালাওয়েন্স, শীতকালীন জ্বালানি ভাতা, জীবনযাত্রার ব্যয় সহায়তা এবং হাউজিং বেনিফিটের অর্থ তার অ্যাকাউন্টে আসতে থাকে।
বিচারক ট্রেসি লয়েড-ক্লার্ক বলেন, ফিলিপস মায়ের মৃত্যুর পরও তার প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করেছেন এবং চিকিৎসকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তিনি বারবার বলেছেন, তার মা চিকিৎসা নিতে চান না বা অ্যাপয়েন্টমেন্টে যেতে চান না।
বিচারক আরও বলেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদনে ফিলিপসের দীর্ঘস্থায়ী শোকজনিত মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মায়ের প্রতি তার গভীর নির্ভরশীল সম্পর্ক ছিল এবং মায়ের মৃত্যু মেনে নিতে তার সমস্যা হচ্ছিল।
ফিলিপসের আইনজীবী রুথ স্মিথ আদালতে বলেন, তার মক্কেল দুই বছর বয়সে সিলভিয়ার দত্তক সন্তান হয়েছিলেন এবং তাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তারা প্রায় ৫০ বছর একই সঙ্গে বসবাস করেছেন এবং ২০০৮ সাল থেকে ফিলিপসই মূলত মায়ের দেখাশোনা করতেন।
আইনজীবী বলেন, ফিলিপস পুলিশকে জানিয়েছিলেন, “আমি মূলত তাকে ছেড়ে দিতে চাইনি।” তিনি মায়ের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলতেন যেন তিনি এখনও জীবিত আছেন।
তবে প্রসিকিউটর অ্যালেক্স অর্নডাল বলেন, এটি ছিল একটি “পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত”। মায়ের মৃত্যুর খবর গোপন করে তিনি আর্থিক সুবিধা নেওয়া চালিয়ে যান।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ফিলিপসকে সাজা হিসেবে কারাগারে যেতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর লাইসেন্সের শর্তে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য বাজেয়াপ্ত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সাউথ ওয়েলস পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর ক্লেয়ার ল্যামারটন বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজের মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি লুকিয়ে দীর্ঘ সময় আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। তিনি সিলভিয়া ফিলিপসের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।