
যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া মানুষের জন্য সুখবর আসতে পারে। নতুন নিয়ম ও ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়তার কারণে এখন অনেক ফার্স্ট-টাইম ক্রেতা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ মর্টগেজ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, প্রায় ৩ লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি গড় বাড়ির দাম এবং বাড়তে থাকা মর্টগেজ সুদের কারণে অনেকের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে কিছু ঋণদাতা এখন আবেদনকারীর বার্ষিক আয়ের ছয় গুণ, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সাত গুণ পর্যন্ত মর্টগেজ দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে অনেক মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার পথ সহজ হতে পারে। তবে বেশি ঋণ নেওয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকিও রয়েছে।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ মর্টগেজ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। অনেক ব্যাংক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং বহু মানুষ নিজেদের বাড়ি হারান।
এরপর যুক্তরাজ্যে মর্টগেজ দেওয়ার নিয়ম আরও কঠোর করা হয়। ২০১৪ সালে তৎকালীন ব্যবসা সচিব ভিন্স কেবল বলেছিলেন, কিছু ঋণদাতা আবেদনকারীর আয়ের পাঁচ গুণ পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছিলেন, যেখানে তুলনামূলক নিরাপদ সীমা ছিল প্রায় সাড়ে তিন গুণ।
কিন্তু গত কয়েক বছরে বাড়ির দাম বেতন বৃদ্ধির তুলনায় অনেক দ্রুত বেড়েছে। ফলে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য বড় ঋণ নেওয়া ছাড়া বাড়ি কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, ঋণদাতাদের নতুন মর্টগেজের একটি নির্দিষ্ট অংশের বেশি ৪.৫ গুণ আয়ের বেশি ঋণ দেওয়ার অনুমতি ছিল না। বড় ব্যাংকগুলোর অনেকেই এই সীমার কাছাকাছিও যেত না।
গত এক বছরে এসব নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এখন অনেক মর্টগেজ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক বেশি আয়ের অনুপাতে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। বিশেষ করে কিছু ছোট ঋণদাতা ও বিল্ডিং সোসাইটি বেশি পরিমাণ ঋণের সুযোগ দিচ্ছে।
মর্টগেজ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান এলঅ্যান্ডসি-এর ডেভিড হলিংওয়ার্থ বলেন, এই পরিবর্তনের ফলে যেসব প্রথমবারের ক্রেতা মনে করতেন বাড়ি কেনা তাদের নাগালের বাইরে, তারা এখন নতুন করে সুযোগ খুঁজে পেতে পারেন।
তবে ট্রিনিটি ফাইন্যান্সিয়ালের মর্টগেজ বিশেষজ্ঞ অ্যারন স্ট্রাট সতর্ক করে বলেন, বেশি আয়ের অনুপাতে ঋণ নেওয়া সবার জন্য উপযুক্ত নয়। যদিও অনেকের কাছে এটি ভাড়া বাসা থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়ি কেনার একটি আকর্ষণীয় সুযোগ হতে পারে।
যারা বড় অঙ্কের মর্টগেজের জন্য আবেদন করবেন, তাদের জন্য এখনও কঠোর কিছু শর্ত রয়েছে। সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে ভালো ক্রেডিট স্কোর, সীমিত ঋণ বা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং সময়মতো সব পেমেন্ট করার রেকর্ড।
এছাড়া নিয়মিত বেতন পাওয়া চাকরিজীবীদের জন্য এই ধরনের মর্টগেজ পাওয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে। অনেক স্বনির্ভর বা অনিয়মিত আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে শর্ত কঠিন হতে পারে।
আবেদনকারীর বেতন কত এবং কোন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে দুই বছরের পরিবর্তে পাঁচ বা দশ বছরের নির্দিষ্ট সুদের হারের মর্টগেজ নিতে হতে পারে।
কম ডিপোজিটে মর্টগেজের সুযোগও কিছুটা বেড়েছে, তবে এখনও বাড়ি কেনার জন্য পর্যাপ্ত সঞ্চয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এখন সহজে বেশি ঋণ পাওয়া গেলেও ভবিষ্যতের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।
পাঁচ বছর পর যখন মর্টগেজ নবায়ন করতে হবে, তখন সুদের হার বা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা পরিবারের কারও দেখাশোনার কারণে আয় কমে গেলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
মর্টগেজ বিশেষজ্ঞ অ্যারন স্ট্রাট বলেন, বাড়ি কেনার আগে জরুরি পরিস্থিতির জন্য কিছু অতিরিক্ত অর্থ সঞ্চয় রাখা বা বিকল্প পরিকল্পনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মে প্রথমবার বাড়ি কেনার সুযোগ বাড়লেও, নিজের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই বড় ঋণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।