যুক্তরাজ্য

BBC
৪ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮
আরও খবর

অবৈধপথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় নৌকায় আগুন, ১৭৩ অভিবাসী উদ্ধার!

16279_d18261f0-9012-11f1-aabc-c3c7aa714117.jpg

ইংলিশ চ্যানেলে ছোট নৌকায় আগুন লাগার পর যৌথ উদ্ধার অভিযান, ১৭৩ অভিবাসীকে নিরাপদে উদ্ধার। যুক্তরাজ্য বলছে, সবাইকে ফ্রান্সে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। চ্যানেল পারাপার, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার নিয়ে ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক বিতর্ক।

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ছোট নৌকায় আগুন লাগার পর ১৭৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্ধারকারী বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ১১ জন সামান্য আহত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

ফ্রান্সের চ্যানেল ও উত্তর সাগর মেরিটাইম প্রিফেকচারের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটি সোমবার রাতেই ফ্রান্সের উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। রাতের মধ্যেই নৌকায় থাকা পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও অন্য যাত্রীরা যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর আশায় ফরাসি উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, চ্যানেল পারাপারে ব্যবহৃত ছোট নৌকাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল হওয়ায় তখন জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ করা হয়নি। তবে মঙ্গলবার সকালে নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে এবং নৌকাটি ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

এরপর ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ফ্রান্সের উদ্ধারকারী জাহাজের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বর্ডার ফোর্সের BSC ContenderBSC Courageous এবং RNLI Eastbourne লাইফবোট অংশ নেয়। প্রথমে ১৫৭ জনকে উদ্ধারের কথা জানানো হলেও পরে সেই সংখ্যা সংশোধন করে ১৭৩ জন করা হয়।

উদ্ধার হওয়া সবাইকে ফ্রান্সের বুলোন-সুর-মের বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আহত ১১ জনের অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী আনা টারলি বলেন, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে চ্যানেল দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের চেষ্টা কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে এবং এর পেছনে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রগুলো কতটা নির্মম। তিনি বলেন, এসব চক্রের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং উদ্ধার হওয়া সবাইকে ফ্রান্সেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের এক মুখপাত্র জানান, নৌকাটি ফরাসি জলসীমায় বিপদে পড়ার খবর পাওয়ার পর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করে। এই ঘটনা ছোট নৌকায় চ্যানেল পারাপারের ভয়াবহ ঝুঁকির আরেকটি উদাহরণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন বিপজ্জনক যাত্রা ঠেকাতে ফ্রান্সসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে আবারও অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ফরাসি পুলিশ অনেক সময় নৌকাগুলো যাত্রা শুরু করার সময় কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না, যার ফলে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে হবে এবং তার দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি তার দল সরকারে গেলে চ্যানেলে নৌকা ঠেকাতে রয়্যাল নেভি মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে।

চ্যানেল পারাপার নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে স্পেনের সিউটা সীমান্তে সাম্প্রতিক অভিবাসী সংকটের পর। এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অভিবাসীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। গত বুধবার চলতি বছরের একদিনে সর্বোচ্চ ৭৫২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।

হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ছোট নৌকায় চ্যানেল পারাপারের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কমেছে। যদিও গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ায় অনুকূল আবহাওয়ার সুযোগে এই রুটে পারাপারের চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এরই মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ৬৬২ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি তিন বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় ফরাসি উপকূলে অতিরিক্ত দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ পুলিশ, ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা মোতায়েনের মাধ্যমে মানবপাচারকারী চক্র ও অবৈধ চ্যানেল পারাপার রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে অর্থায়নের একটি অংশ প্রত্যাহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও