যুক্তরাজ্য

Mirror
৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে অভিবাসীদের 'সোশ্যাল হাউজিং' থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা কনজারভেটিভ পার্টির!

16304_833553.jpeg

সামাজিক আবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব কনজারভেটিভ পার্টির। যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড বা ইইউর নাগরিক নন, এমন অনেক বাসিন্দাকে ছয় মাসের মধ্যে বাসা ছাড়তে হতে পারে। বিরোধীদের দাবি, এতে শরণার্থী, দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ও এনএইচএস কর্মীদের পরিবারও গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

যুক্তরাজ্যে বিদেশি নাগরিকদের জন্য সামাজিক আবাসন (Social Housing) পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, সামাজিক আবাসনে বসবাসকারী এমন ব্যক্তি বা দম্পতি যারা যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক নন এবং ইইউ সেটেলড স্ট্যাটাসও নেই, তাদের ছয় মাসের মধ্যে 'সোশ্যাল হাউজিং'-এর বাসা ছেড়ে দিতে হবে।

কনজারভেটিভদের দাবি, এই নীতি কার্যকর হলে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সামাজিক আবাসন নতুন করে খালি হবে, যা ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ করা সম্ভব হবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সেটেলড স্ট্যাটাস, শরণার্থী মর্যাদা বা মানবিক সুরক্ষা (Humanitarian Protection) পাওয়া বিদেশি নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সামাজিক আবাসনের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া ইইউ সেটেলড স্ট্যাটাসধারীরা এই প্রস্তাবিত নীতির আওতায় উচ্ছেদের মুখে পড়বেন না।

তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি কোনো দম্পতির কেউই যুক্তরাজ্য বা ইইউর নাগরিক না হন এবং তাদের ইইউ সেটেলড স্ট্যাটাস না থাকে, তাহলে তারা সামাজিক আবাসনের অধিকার হারাবেন। এমনকি তাদের সন্তান থাকলেও ছয় মাসের মধ্যে বাসা ছাড়তে হবে।

এ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। দলটির অভিযোগ, কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক শুধু রিফর্ম ইউকের নীতির অনুসরণ করছেন, অথচ আবাসন সংকটের প্রকৃত সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

লেবারের এক মুখপাত্র বলেন, এটি একটি অবাস্তব ও অকার্যকর প্রস্তাব, যা আবাসন সংকট কমানোর পরিবর্তে আরও পরিবারকে গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে। এর ফলে অস্থায়ী আবাসনের ওপর সরকারি ব্যয়ও বেড়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, যাদের Indefinite Leave to Remain (ILR) নেই, তারা আগেই সামাজিক আবাসনের জন্য অযোগ্য। তাই নতুন নীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে শরণার্থী, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বৈধ অভিবাসী এবং এনএইচএসসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত বিদেশি বাসিন্দাদের ওপর।

এর আগে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজও ক্ষমতায় এলে সব বিদেশি নাগরিককে সামাজিক আবাসন থেকে উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, বর্তমান ব্যবস্থা "শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে দ্বিস্তরবিশিষ্ট রাষ্ট্র" তৈরি করেছে।

অন্যদিকে লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যে চলমান আবাসন সংকটের কথা তুলে ধরে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের পর সবচেয়ে বড় কাউন্সিল হাউস নির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইংলিশ হাউজিং সার্ভের ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক আবাসনে বসবাসকারী প্রধান ভাড়াটিয়াদের ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডের নাগরিক এবং ১১ দশমিক ৫ শতাংশ অন্য দেশের নাগরিক। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার অ-যুক্তরাজ্য ও অ-আইরিশ নাগরিক সামাজিক আবাসনে বসবাস করছেন।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আবাসন নীতি নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও