
ইতালি পৌঁছে দেওয়ার চুক্তিতে ঘর ছাড়েন মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ইকবার মাদবর (২৫)। তবে লিবিয়া যাওয়ার পর বদলে যায় পরিস্থিতি। রঙিন স্বপ্ন হয়ে আসে ধূসর! লিবিয়া নেওয়ার পর দালাল চক্র তাকে বিক্রি করে দেন মাফিয়াদের কাছে। দফায় দফায় নির্যাতনে মারা যান ইকবাল।
গত বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) মারা যাওয়ার খবর পৌঁছায় বাড়িতে, শুরু হয় শোকের মাতম।
নিহত ইকবাল শিবচর উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়ন সরকারেরচর গ্রামের মোতালেব মাদবরের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় দালাল মো. সাগরের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে সৌদি আরব নেন। এরপর বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান ইকবাল। লিবিয়াতে একবার গেম (ইতালি যাওয়ার জন্য নৌকায় উঠে) দেয়। তবে গেমটি ব্যর্থ হলে ফের লিবিয়ায় দালালের তত্ত্বাবধানে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ ইকবালকে আটক করে জেলে নেয়। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মাফিয়াদের হাতে বন্দি হন ইকবাল! এরপর মুক্তিপণের জন্য মারধর করতে থাকেন। এরপর দফায় দফায় টাকা পাঠানো হয়। তবে ৪ লাখ টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইকবালের সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিহতের বড় বোন মুক্তা আক্তার বলেন, আমার ভাই প্রায় ১০ মাস আগে বাড়ি ছাড়ে। দালাল বলেছিল, সরাসরি লিবিয়া থেকে ইতালি নেবে। কিন্তু সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কাসহ নানা দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়া নেয়। পরে একবার গেম দিলেও আমার ভাইকে পাঠাতে পারেনি। এরপর পুলিশে ধরে, জেলও খাটে। আমরা বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে দালালের সঙ্গে আলোচনা করতে থাকি। দালাল লাখ লাখ টাকা চায়। পরে শুনি ভাইকে মাফিয়ারা ধরে নিয়ে গেছে। এরপর মারধর করতে থাকে। আমরা তাদের চাহিদা মতো টাকা দিয়েছি। ১২ লাখ টাকা চাইছে, ৮ লাখ দিছিলাম আমরা। এরপর আর কোনো খোঁজ পাই না ভাইয়ের। গত ৫ আগস্ট ওর সঙ্গে থাকা বাঙালি একজন ফোন করে মৃত্যুর খবর দেয়।
মুক্তা আক্তার আরও বলেন, বুধবার সকালে লিবিয়া থেকে ফোন আসে। ইকবাল মারা গেছে। ওর জানাজা পড়ানো হয়েছে। মাফিয়ার নির্যাতনে মারা গেছে আমার ভাই। সবকিছুর জন্য দালাল সাগর দায়ী। ও এখন পলাতক। ওর কোনো খোঁজ নাই, গা ঢাকা দিয়েছে। আমার ভাই হত্যার বিচার চাই! আমার ভাইয়ের লাশ চাই।
নিহত ইকবাল এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে ছিলেন মেজো। তার বাবা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় জমি বিক্রি, ধারদেনা করে তাকে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিল তার পরিবার।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর একই এলাকার নিশাত নামে এক যুবক নিখোঁজ হন। ইতালির উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় নৌকাডুবে নিখোঁজ হন তিনি। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ মেলেনি।