
প্রতিবেশীর গাড়ির অ্যালার্ম বারবার বাজলে তা শুধু বিরক্তিকর নয়, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের আইনে কী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, তা জানলে অনেকটাই সহজ হবে।
মাঝেমধ্যে গাড়ির অ্যালার্ম বেজে উঠলে সাধারণত বিষয়টি মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু কোনো প্রতিবেশীর গাড়ির অ্যালার্ম যদি দিনের পর দিন বারবার বাজতে থাকে কিংবা রাতে ঘুম ভেঙে যায়, তাহলে সেটি বড় ধরনের শব্দদূষণ ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে শুধু গাড়ির অ্যালার্ম বেজে ওঠার কারণেই গাড়ির মালিক আইন ভঙ্গ করেছেন; এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।
যুক্তরাজ্যে কোনো গাড়ির অ্যালার্মের শব্দ আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা নির্ভর করে শব্দটি কত ঘন ঘন হচ্ছে, কতক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের ওপর এর প্রভাব কতটা গুরুতর; এসব বিষয়ের ওপর।
স্থানীয় কাউন্সিলের পরিবেশ স্বাস্থ্য বিভাগ অতিরিক্ত শব্দের অভিযোগ তদন্ত করতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো শব্দসীমার পরিবর্তে তারা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। শব্দের মাত্রা, দিনের কোন সময়ে তা হচ্ছে, কতবার ঘটছে এবং প্রতিবেশীদের জীবনযাত্রায় এর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে; এসব বিষয় তদন্তের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়।
কাউন্সিল যদি মনে করে শব্দটি আইন অনুযায়ী ‘স্ট্যাচুটরি নিউস্যান্স’ বা গুরুতর জনদুর্ভোগ হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিল একটি ‘অ্যাবেটমেন্ট নোটিশ’ জারি করে শব্দের সমস্যা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দিতে পারে।
এই নোটিশ পাওয়ার পরও যথাযথ কারণ ছাড়া নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং জরিমানা হতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৯৯০ সালের পরিবেশ সুরক্ষা আইনের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
কিছু পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ির অ্যালার্ম বাজতে থাকলে এবং গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আরও নির্দিষ্ট ক্ষমতাও রয়েছে। ২০০৫ সালের ক্লিন নেইবারহুডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমোদিত কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে বাজতে থাকা গাড়ির অ্যালার্ম বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে পারেন।
তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার আগে সম্ভব হলে প্রতিবেশীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক সময় গাড়ির মালিক বুঝতেই পারেন না যে তার গাড়ির অ্যালার্ম বারবার বাজছে। বিশেষ করে গাড়িটি বাড়ি থেকে দূরে পার্ক করা থাকলে বা মালিক কর্মস্থলে থাকলে এমনটা হতে পারে।
সমস্যা অব্যাহত থাকলে অ্যালার্ম কখন বাজছে, কতক্ষণ ধরে বাজছে এবং কত ঘন ঘন বাজছে; এসবের একটি লিখিত রেকর্ড রাখা ভালো। প্রয়োজন হলে এই তথ্য স্থানীয় কাউন্সিলের কাছে অভিযোগ করার সময় প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে এবং শব্দের কারণে বাসিন্দাদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেটিও বোঝাতে সাহায্য করবে।
একবার ভুলবশত অ্যালার্ম বেজে ওঠা বা মাঝেমধ্যে অ্যালার্মের ত্রুটি সাধারণত আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যবস্থার জন্য যথেষ্ট নয়। মূলত দীর্ঘস্থায়ী, বারবার ঘটতে থাকা এবং আশপাশের মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলা শব্দের বিরুদ্ধেই কাউন্সিল বেশি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেয়।
তাই প্রতিবেশীর গাড়ির অ্যালার্ম বারবার বাজলেই সঙ্গে সঙ্গে আইন ভঙ্গ হয়েছে; এমন নয়। তবে শব্দের মাত্রা ও পুনরাবৃত্তি যদি এতটাই বেড়ে যায় যে তা ‘স্ট্যাচুটরি নিউস্যান্স’-এর পর্যায়ে পড়ে, তাহলে স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।