
যুক্তরাজ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক রেল যোগাযোগ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এবার এসেক্সের উইকফোর্ডের কাছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী বহনকারী গ্রেটার অ্যাঙ্গলিয়ার একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে।
স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২১ মিনিটের দিকে উইকফোর্ড ও রেলি স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর লন্ডনের লিভারপুল স্ট্রিট থেকে সাউথেন্ড ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত গ্রেটার অ্যাঙ্গলিয়ার সব ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
ন্যাশনাল রেল জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার কারণে রেল নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যাত্রীদের শেনফিল্ড থেকে সাউথেন্ড ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত রেলপথে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উইকফোর্ড ও সাউথমিনস্টারের মধ্যকার ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ, দমকল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিষেবার সদস্যরা পৌঁছান। এসেক্স এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, ট্রেনটির পেছনের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হলেও সেগুলো উল্টে যায়নি। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রীর মধ্যে এখন পর্যন্ত কারও গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় আশপাশের কয়েকটি ভবন কেঁপে ওঠার মতো অনুভূত হয়েছিল।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেল দুর্ঘটনা তদন্ত শাখা বা রেল অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চের (আরএআইবি) একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তারা দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করছে।
বাসিলডন কাউন্সিল জানিয়েছে, তাদের কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে জরুরি পরিষেবা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছেন। কাউন্সিলের নেতা অ্যান্ডি বার্নস জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে লুইসের কাছে একটি সাদার্ন ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে তিনটি বগি ট্র্যাকের বাইরে চলে যায়। ওই ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী ট্রেনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন এবং ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিল।
পরপর দুই দিনে যুক্তরাজ্যের দুটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় দেশটির রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে উইকফোর্ডের দুর্ঘটনার কারণে লন্ডন ও সাউথেন্ডের মধ্যে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রীকে বিকল্প পরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।