যুক্তরাজ্য

MSE
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৮
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে পানির বিল নিয়ে চিন্তিত? কয়েকটি উপায়ে বাঁচাতে পারেন শত শত পাউন্ড

16408_images-4 2.jpeg

প্রোভাইডার বদলাতে না পারলেও মিটার, সামাজিক ট্যারিফসহ কয়েকটি উপায়ে পানির খরচ বছরে শত শত পাউন্ড কমানো সম্ভব

যুক্তরাজ্যে পানির বিল নিয়ে চাপে থাকা লাখো পরিবারের জন্য বড় সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যারা এখনো পানির মিটার ব্যবহার করেন না, তারা নিজেদের প্রকৃত পানির ব্যবহার অনুযায়ী বিল পরিশোধ করে বছরে শত শত পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। কম আয়ের পরিবার, বড় পরিবার এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন থাকা ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে আরও কিছু সহায়তা।

এপ্রিল থেকে পানির বিল বেড়ে যাওয়ার পর অনেক পরিবার খরচ কমানোর পথ খুঁজছে। একই সময়ে ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের অধিকাংশ এলাকা খরার মধ্যে রয়েছে এবং আবারও তাপপ্রবাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে পানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি পানির বিল কমানোও অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিনামূল্যে পানির মিটার বসিয়ে কমতে পারে বিল

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যেসব বাড়িতে পানির মিটার নেই, তাদের অনেকের বিল এখনো পুরোনো ‘রেটস’ পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হয়। এই ব্যবস্থায় পরিবার কতটুকু পানি ব্যবহার করছে, তার ওপর সরাসরি বিল নির্ভর করে না; বরং বাড়ির ভাড়া মূল্যের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ করা হয়। ফলে বড় বাড়িতে বসবাসকারী কম সদস্যের পরিবারও তুলনামূলক বেশি পানির বিল দিতে পারে।

এ ধরনের পরিবারের জন্য বিনামূল্যে পানির মিটার বসানো লাভজনক হতে পারে। মিটার বসালে কতটুকু পানি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ভিত্তিতে বিল নির্ধারণ করা হয়। বিশেষ করে বড় বাড়িতে অল্পসংখ্যক মানুষ বসবাস করলে এতে বড় ধরনের সাশ্রয় হতে পারে।

একজন গ্রাহক জানিয়েছেন, পানির মিটার বসানোর পর তার মাসিক ডাইরেক্ট ডেবিট ১০৮ পাউন্ড থেকে কমে মাত্র ১৯ পাউন্ডে নেমে এসেছে। অর্থাৎ বছরে তার সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৮ পাউন্ড।

যারা পানির মিটার বসিয়েছেন কিন্তু পরে মনে করছেন এটি তাদের জন্য সুবিধাজনক নয়, তারাও কিছু ক্ষেত্রে আবার আগের বিলিং ব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারেন। কোনো গ্রাহক স্বেচ্ছায় মিটার বসালে অধিকাংশ পানির কোম্পানি সাধারণত দুই বছরের মধ্যে মিটার বাদ দিয়ে আগের ব্যবস্থায় ফেরার সুযোগ দেয়। তবে কোম্পানিভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে।

মিটার বসানো সম্ভব না হলে রয়েছে বিকল্প

ফ্ল্যাটে বসবাসকারী বা শেয়ার করা পাইপের কারণে অনেকের বাড়িতে বাস্তবে পানির মিটার বসানো সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে পানির কোম্পানির কাছে ‘অ্যাসেসড চার্জ’ বিলের জন্য আবেদন করা যায়।

এই ব্যবস্থায় আপনার বাড়িতে মিটার থাকলে সম্ভাব্য কত বিল আসত, তার ভিত্তিতে একটি নির্ধারিত চার্জ হিসাব করা হয়। যদি এই চার্জ বর্তমান বিলের চেয়ে কম হয়, তাহলে গ্রাহক সেই ব্যবস্থায় যেতে পারেন।

একজন গ্রাহক জানিয়েছেন, তার বাড়িতে পানির মিটার বসানো সম্ভব না হলেও অ্যাসেসড চার্জের জন্য আবেদন করার পর ২০২৫/২৬ সালের প্রায় ৭০০ পাউন্ডের বিল কমে মাত্র ১০০ পাউন্ডে নেমে এসেছে।

কম আয়ের পরিবারে বছরে ৪০০ পাউন্ডের বেশি সাশ্রয় সম্ভব

কম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য পানির কোম্পানিগুলোর সামাজিক ট্যারিফও বড় ধরনের সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সব পানির কোম্পানিই কোনো না কোনো ধরনের সামাজিক ট্যারিফ দেয় এবং যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষেত্রে পানির বিল ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

তবে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। গ্রাহককে নিজের পানির কোম্পানির কাছে আবেদন করতে হয়। কারা যোগ্য এবং কতটা ছাড় পাওয়া যাবে, তা কোম্পানিভেদে আলাদা হতে পারে।

একজন গ্রাহক জানিয়েছেন, ৮০৭ পাউন্ডের পানির বিলে সামাজিক ট্যারিফের মাধ্যমে তিনি ৫০ শতাংশ ছাড় পেয়েছেন। এতে তার বছরে প্রায় ৪০৪ পাউন্ড সাশ্রয় হয়েছে।

বেনিফিট পান এবং পরিবারে তিন বা তার বেশি সন্তান থাকলে

যারা বেনিফিট পান এবং পরিবারে তিন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে, অথবা এমন কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে যার কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি ব্যবহার করতে হয়, তারা ওয়াটারশিওর প্রকল্পের আওতায় পানির বিল নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার সুযোগ পেতে পারেন।

এই সুবিধার মাধ্যমে বড় পরিবার বা অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে এমন পরিবারগুলোর পানির বিল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট পানির কোম্পানির কাছে আবেদন করতে হয়।

বিনামূল্যে পানিসাশ্রয়ী সরঞ্জামও মিলতে পারে

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক লাখ পরিবার পানির কোম্পানির কাছ থেকে বিনামূল্যে পানিসাশ্রয়ী বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে পানিসাশ্রয়ী শাওয়ার হেড, কলের জন্য বিশেষ ইনসার্ট এবং টয়লেটের সিস্টার্নে ব্যবহারের জন্য পানির অপচয় কমানোর ব্যাগ থাকতে পারে।

তবে এসব বিনামূল্যের সরঞ্জাম সব এলাকায় একইভাবে পাওয়া যায় না। তাই নিজের পানির কোম্পানির ওয়েবসাইটে গিয়ে এ ধরনের কোনো সুবিধা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।

দৈনন্দিন অভ্যাস বদলালেও কমবে পানির বিল

পানির ব্যবহার কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনা। কল খুলে পানি গরম বা ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় সেই পানি ফেলে না দিয়ে বোতলে জমিয়ে গাছে পানি দেওয়ার মতো কাজে ব্যবহার করা যায়।

দীর্ঘ সময় বাথটাবে গোসল করার পরিবর্তে দ্রুত শাওয়ার নিলে পানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। রান্নার সময় বারবার থালা-বাসন ধোয়ার পরিবর্তে একসঙ্গে ধুলেও গরম পানির ব্যবহার কমে। আর ডুয়াল-ফ্লাশ টয়লেট ব্যবহার করলে প্রয়োজন অনুযায়ী কম বা বেশি পানি দিয়ে ফ্লাশ করা যায়।

পানির বিল কমাতে তাই প্রোভাইডার বদলানো সম্ভব না হলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। সঠিক ক্ষেত্রে পানির মিটার, অ্যাসেসড চার্জ, সামাজিক ট্যারিফ বা ওয়াটারশিওর সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন পানির ব্যবহার কমিয়ে একটি পরিবার বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারে।

 

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও