যুক্তরাজ্য

BBC
১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে আপাতত বৃষ্টি নামলেও সেপ্টেম্বরে কি ফিরছে নতুন হিটওয়েভ?

16427_images-3 Large.jpeg

যুক্তরাজ্যে প্রায় দুই মাসের দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়ার পর অবশেষে অনেক এলাকায় বৃষ্টির দেখা মিলেছে। চলতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আবারও শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ফিরে আসতে পারে। ফলে এ বছর যুক্তরাজ্যে আরও একটি হিটওয়েভের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার থেকেই দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে। তবে এই সাময়িক শীতল আবহাওয়ার পর সেপ্টেম্বরে আবারও উষ্ণতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বুধবার যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ এলাকায় রোদ ও বৃষ্টির মিশ্র আবহাওয়া থাকবে। স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও উত্তর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ভারী, বজ্রসহ এবং দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কিছু অংশে ধীরগতির ও দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে কোথাও কোথাও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও রয়েছে।

তবে কয়েক দিনের এই বৃষ্টি দীর্ঘদিনের খরা পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট হবে না। ইংল্যান্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এবং পুরো ওয়েলস বর্তমানে খরার মধ্যে রয়েছে। সারে এলাকার উইসলিতে টানা ৬২ দিন পর অবশেষে পরিমাপযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আরও কয়েক সপ্তাহের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পরিবেশ সংস্থা।

চলতি গ্রীষ্ম যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ার ইতিহাসে ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম এখন পর্যন্ত রেকর্ডের মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগস্টের বাকি সময়েও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম না হলে গত বছরের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে এ বছর।

সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য আবহাওয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই নজর দিতে শুরু করেছে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস মডেলগুলো। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণে উচ্চচাপ বলয় শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে উষ্ণ বাতাস যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে। এতে তাপমাত্রা আবারও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের শুষ্ক মাটিও এই উষ্ণ আবহাওয়াকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। মাটিতে আর্দ্রতা কম থাকলে বৃষ্টির পানির বাষ্পীভবনে কম শক্তি ব্যয় হয় এবং সেই শক্তি সরাসরি বাতাসকে উষ্ণ করতে ভূমিকা রাখে। চলতি সপ্তাহের বৃষ্টিও মাটিকে পুরোপুরি সিক্ত করার মতো পর্যাপ্ত নাও হতে পারে।

এর পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আশপাশের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রাও বর্তমানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। সমুদ্রের এই অতিরিক্ত উষ্ণতাও স্থলভাগের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ তিন মাসের সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষ করে এই সময়ের প্রথমার্ধে তাপপ্রবাহ ও অতিরিক্ত গরমজনিত প্রভাবের ঝুঁকিও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

তবে সেপ্টেম্বর এখনও শুরু হয়নি। তাই ঠিক কখন তাপমাত্রা বাড়বে কিংবা আদৌ নতুন কোনো তাপপ্রবাহ তৈরি হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, আপাতত শুধু এটুকু বলা যায়; সেপ্টেম্বরে আরও একটি উষ্ণ ও শুষ্ক সময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর; এই তিন মাসের সামগ্রিক আবহাওয়া স্বাভাবিকের তুলনায় শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে চলতি সপ্তাহের বৃষ্টি সাময়িক স্বস্তি দিলেও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও