রাজনীতি

‘রুমিন ফারহানা-ফজলুর রহমানকে আমরা বাইরের এজেন্ট মনে করি’

16518_IMG_9053.jpeg

রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমানকে ‘বাইরের এজেন্ট’ মনে করেন বলে মন্তব্য করেছেন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। শনিবার (২৯ আগস্ট) দিনগত রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, তাদের বক্তব্যে আলেম-ওলামাদের তেমন প্রতিক্রিয়া না থাকলেও যাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তারা কোনো বিষয়ে ‘না জেনে, না শুনে’ বক্তব্য দিলে কষ্ট লাগে।

শনিবার দিনগত রাত (২৯ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া রফিকুল ইসলাম মাদানীর ওই স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘হুজুররা হাসানাতের বেলায় এত চেতছে, অথচ ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা বা অন্য কেউ বললে তো এত চেতে না, তাহলে তো এরা ফান্ডিং আন্দোলন করে!’—যারা এমন বলার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম মাদানী লিখেছেন, ‘আমরা যদি প্রশ্ন করি, সবাই রাজুতে আসেন বলার পর রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের ডাকে কোন মাদ্রাসা ছাত্ররা গিয়েছিল শাহবাগে? কিংবা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে কার ডাকে স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসা ছাত্ররা গিয়েছিল?’

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আমাকে ফোনে একদিন হাসানাত ভাই বললেন, ‘ভাই, জরুরি ঢাকা আসেন, হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। আমি তখন অবাক- এই পরিস্থিতিতে উনি আমার নাম্বার কোথায় পেলেন!’

এরপর তিনি লেখেন, ‘আমিও সোজা চলে গেলাম, সাথে যারা ছিল তাদের নিয়ে গিয়ে দেখলাম, শাহবাগে অনেক মাদ্রাসা ছাত্ররাও সেখানে উপস্থিত!’

হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে পরবর্তী সময়ের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মাদানী বলেন, ‘পরবর্তীতে তো দেশ স্বাভাবিক হলে উনার বাড়িতে উনার দাওয়াতে মাহফিলেও গিয়েছি।’

রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমান- এ ধরনের লোক পায়ে ধরে সারা দিন পড়ে থাকলেও আমরা কোথাও যাব না। এদের আমরা বাইরের এজেন্ট মনে করি। এদের বক্তব্যের মাঝেমধ্যে প্রতিবাদ করি, আবার করিও না!’

এরপর মাদানী লেখেন, ‘কিন্তু যাদের সাথে আমাদের এত সম্পর্ক, যাদের সাথে হাতে-হাত রেখে আন্দোলন করলাম, যাদের বিপদে দোয়া করি, যাদের দুর্দিনে আমরা পাশে দাঁড়াই, তারাও আমাদের পাশে দাঁড়ায়!’

হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলামের সঙ্গে মাদ্রাসা ও মসজিদকেন্দ্রিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘খেয়াল করলে দেখবেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বা নাহিদ ইসলামরা যখন কোন মাদ্রাসায় যায় বা মসজিদে যায়, ছাত্ররা কি পরিমাণ সম্মান করে ও মোহাব্বত দেখায়, একেবারে তারা তাদের নিজেদের লোক মনে করে!’

তিনি আরও লেখেন, ‘এখন সেই মানুষগুলো যখন সংসদের মতো জায়গায় এভাবে না জেনে, না শুনে বক্তব্য দিলে কষ্ট তো লাগবেই!’

রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে মাদানী লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপিতে থাকা শাহবাগী মার্কা কথা বলা বিদেশি এজেন্টদের কথা শুনলে মনে হয়, ওহ, এ আর নতুন কী? এরা তো চিহ্নিত কালপ্রিট!’

এরপর তিনি বলেন, ‘আর যাদের ডাকে আমরা যাই, যাদের প্রতি মোহাব্বত রাখি, তারা এমন করলে মনে হয় বে-ঈমানী!’

স্ট্যাটাসের শেষাংশে রফিকুল ইসলাম মাদানী লেখেন, ‘ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না!’

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও