রাজনীতি

আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি নিয়ে অবস্থান বদলাল দুদক

16533_6b0ca5a4a01e81100c7177fefe8fa930-2.jpeg

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দিনভর একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর অবস্থান বদলেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সকালে অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর খবরের পর বিকেলে দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে। এরপর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ‘প্রাথমিক সত্যতা’ বা ‘প্রাথমিক প্রমাণ’ পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। 

তবে সংবাদ প্রকাশের কিছুক্ষণ পর সাংবাদিকদের একটি গ্রুপে বার্তা দিয়ে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ করেছেন দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম। একই সঙ্গে কোনো ভিডিওতে এ শব্দ থাকলে সেটিও সম্পাদনা করে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় আকতারুল ইসলাম লেখেন, ‘প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, পদোন্নতি, বদলী বাণিজ্য, পদায়নসহ বিভিন্ন অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কথা বলতে গিয়ে সম্ভবত প্রাথমিক সত্যতা শব্দ বলে ফেলেছি। প্রথমিক সত্যতা শব্দটি না ব্যবহার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। ভিডিওতে থাকলে সেটিও এডিট করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’

এর আগে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি এবং সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। অভিযোগসংশ্লিষ্ট অন্যরা হলেন তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। অভিযোগ অনুসন্ধানে ৪ সদস্যের একটি দলও গঠন করা হয়েছে। 

দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ এবং ‘প্রাথমিক প্রমাণ’ পাওয়ার কথা সরাসরি শিরোনামে উঠে আসে। কোথাও বলা হয়, ১৮৮ জন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বদলি ও পদোন্নতি ঘিরে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক। 

এমনকি একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যে প্রায় চার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। সেখানে দুদকের কর্মকর্তা আকতারুল ইসলামের বক্তব্য হিসেবেই ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার’ পর অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে দুদকের বক্তব্যের পর নিজের অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছিলেন, ‘১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকার দুর্নীতি করেছেন একজন উপদেষ্টা, একজন সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিব সহ আরো অনেকে মিলে। দুদক বলছে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ।’

এ বিষয়ে রাতে বিস্তারিত কথা বলবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে দুদকের মুখপাত্র নিজের বক্তব্য পাল্টানোর পর আরেকটি পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে নিজের সম্মানহানি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই উপদেষ্টা। আসিফ মাহমুদ লিখেছেন,  ‘দুদকের মুখপাত্র আক্তারুল ইসলাম আজ সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানালেন। প্রতিটা মিডিয়ায় নিউজ হলো, অনুসন্ধান শুরুর আগেই নাকি উনারা প্রমাণ পেয়ে গেছেন। প্রমাণ ও সত্যতা পাওয়ার নিউজে আসিফ মাহমুদের মানহানি করা হলো।’

সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লিখেছেন,  ‘কিছুক্ষণ পূর্বে তিনি সাংবাদিকদের গ্রুপে মেসেজ দিয়ে বললেন যে, এই 'প্রাথমিক সত্যতা' শব্দ ব্যবহার না করতে। আসিফ মাহমুদের এই মানহানি করার জন্য দুদক কি কোন এপোলজি করবে?’

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও