
যুক্তরাজ্যের ক্রয়ডনে রেললাইনের পাশে আগুন লাগার ঘটনায় গ্যাটউইক বিমানবন্দরগামী ট্রেন চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের কারণে ইস্ট ক্রয়ডন স্টেশনের কাছে রেললাইনের পাশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে গ্যাটউইক এক্সপ্রেসের সব সার্ভিস পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
গ্যাটউইক এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, ইস্ট ক্রয়ডনে রেললাইনের পাশে আগুন লাগার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সব ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকবে। এ ঘটনায় গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা যাত্রীদের বড় ধরনের বিলম্বের মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ক্রয়ডনের অ্যাডিসকম্ব রোডে একটি বড় ধরনের বাড়িতে আগুন লাগার খবরের পর রেললাইনের পাশেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে আসে। আগুনের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ন্যাশনাল রেলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, লন্ডন ব্রিজ থেকে টালস হিল হয়ে ইস্ট ক্রয়ডনগামী কিছু ট্রেন সেলহার্স্ট পর্যন্ত চলাচল করবে এবং সেখানেই যাত্রা শেষ করবে। অন্যদিকে লন্ডন ব্রিজ থেকে ক্যাটারহ্যামগামী ট্রেনগুলো পার্লি হয়ে চলাচলের সময় সাউথ ক্রয়ডন স্টেশনে থামবে না।
এ ছাড়া ওয়েস্ট লন্ডন লাইন দিয়ে চলাচলকারী সব ট্রেনও নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে সেলহার্স্ট পর্যন্ত চলাচল করবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে ট্রেন বাতিল, সময়সূচি পরিবর্তন অথবা সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
গ্যাটউইক এক্সপ্রেসের লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে ব্রাইটন রুট ছাড়াও সাদার্ন ও থেমসলিংকের একাধিক রুট এই পরিস্থিতির কারণে প্রভাবিত হয়েছে। সাদার্নের লন্ডন ব্রিজ–ইস্ট ক্রয়ডন, ক্যাটারহ্যাম, ক্রোবরো, অকফিল্ড এবং লন্ডন ভিক্টোরিয়া থেকে রিগেট, ইস্ট গ্রিনস্টেড, লিটলহ্যাম্পটন, বগনর রেজিস ও পোর্টসমাউথ হারবারগামী সার্ভিসেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
থেমসলিংকের পিটারবরো–হরশাম, কেমব্রিজ–ব্রাইটন, বেডফোর্ড–থ্রি ব্রিজেস ও ব্রাইটন এবং লন্ডন ব্রিজ–থ্রি ব্রিজেস রুটও এই বিঘ্নের আওতায় রয়েছে।
ইস্ট ক্রয়ডন ও পার্লির মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীরা অতিরিক্ত কোনো ভাড়া ছাড়াই লন্ডন বাস ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের যাত্রার আগে সর্বশেষ ট্রেন চলাচলের তথ্য যাচাই করে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।