যুক্তরাজ্য

BBC
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯
আরও খবর

যুক্তরাজ্যে আস্থা হারিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মালিক

16694_skysports-premier-league-manchester-united_6367384 Medium.jpeg

যুক্তরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বড় অংশের মালিক স্যার জিম র‍্যাটক্লিফ বলেছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, দেশটি এখন ‘পিছনের দিকে যাচ্ছে’ এবং উচ্চ কর, অতিরিক্ত অভিবাসন ও সরকারের বিভিন্ন নীতির কারণে যুক্তরাজ্য তার অর্থনৈতিক আকর্ষণ হারাচ্ছে।

রাসায়নিক ও পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান আইএনইওএসের প্রতিষ্ঠাতা র‍্যাটক্লিফের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড। তিনি বর্তমানে মোনাকোর কর-বাসিন্দা এবং ২০২০ সাল থেকে সেখানেই কর দিচ্ছেন। যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশটির পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তিনি ফিরে আসার কথা ভাবছেন না।

র‍্যাটক্লিফের মতে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে সম্পদ সৃষ্টি ও বিনিয়োগের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যারা সম্পদ তৈরি করেন, তাদের সাধারণত প্রশংসা করা হয়। কিন্তু যুক্তরাজ্যে ধনীদের প্রতি এক ধরনের ঈর্ষাপূর্ণ মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত করের কারণে ধনী ব্যক্তি ও ব্যবসাগুলো দেশ ছাড়ছে।

যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। উত্তর সাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে আরও বিনিয়োগ না করাকে তিনি ‘পাগলামি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান আইএনইওএস পরিচালিত ফোর্টিস পাইপলাইন উত্তর সাগরের তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং যুক্তরাজ্যের উত্তর সাগরের প্রায় ৩০ শতাংশ তেল পরিবহন করে।

র‍্যাটক্লিফের দাবি, নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার না করে যুক্তরাজ্য ক্রমেই বেশি পরিমাণে জ্বালানি আমদানির দিকে যাচ্ছে। তাঁর মতে, উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস খাতের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে কোম্পানিগুলো অন্যত্র চলে যেতে পারে এবং এতে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এদিকে উত্তর সাগরের রোজব্যাংক ও জ্যাকড’সহ নতুন তেল ও গ্যাস প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখনও অপেক্ষমাণ। র‍্যাটক্লিফ এসব প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং বলেছেন, প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও নিজেদের দেশে উৎপাদন না করে বাইরে থেকে বেশি জ্বালানি আমদানি করা অযৌক্তিক।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে তেল ও গ্যাস আগামী কয়েক দশক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরই পরিবার ও ব্যবসার জন্য জ্বালানি ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ বলে সরকারের বক্তব্য।

শীতের আগে গ্যাস সরবরাহ নিয়েও সতর্ক করেছেন র‍্যাটক্লিফ। তাঁর আশঙ্কা, তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিলে গ্যাসের মজুত কম থাকায় যুক্তরাজ্য সংকটে পড়তে পারে এবং শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্যাস মজুত বর্তমানে সাধারণ সময়ের তুলনায় কম রয়েছে বলে জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্নওয়াল ইনসাইট জানিয়েছে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম বেল বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিকের তুলনায় দুর্বল হলেও গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। তাঁর মতে, জ্যাকড’ প্রকল্প অনুমোদন পেলে ঝুঁকি আরও কমতে পারে।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রযুক্তি নিয়েও যুক্তরাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন র‍্যাটক্লিফ। ডেনমার্কে ইউরোপের প্রথম কার্বন ধারণ ও সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধনে গিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে এমন প্রযুক্তি চালুর আশা করেছিলেন তিনি, কিন্তু পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। যদিও যুক্তরাজ্য সরকার কার্বন ধারণ ও সংরক্ষণ প্রকল্পে আগামী ২৫ বছরে ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

র‍্যাটক্লিফের সমালোচনা শুধু অর্থনীতি ও জ্বালানি নীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসন ও কল্যাণভাতা নিয়েও তিনি সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও কল্যাণ ব্যয়ের মাত্রা অনেক বেশি এবং রাজনৈতিক নেতারা এসব বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না।

এর আগেও অভিবাসন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন র‍্যাটক্লিফ। চলতি বছরের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য ‘অভিবাসীদের দ্বারা উপনিবেশিত’ হয়েছে—যে মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

র‍্যাটক্লিফের যুক্তরাজ্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন আরও কয়েকজন ধনী ব্রিটিশ নাগরিক দেশটির বাইরে চলে গেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তাল ও হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক ক্রিস রোকস।

সরকার অবশ্য র‍্যাটক্লিফের হতাশার সঙ্গে একমত নয়। সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে এবং গত দুই বছরে ব্যবসায়িক বিনিয়োগও বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ নিয়েও সরকার জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য রয়েছে এবং সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও