বাংলাদেশ

পাওনা না পেয়ে সাবেক কর্মস্থলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনজীবীর মামলা

16769_IMG_9840.jpeg

দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে কাজ করেছেন আইনজীবী মো. সুলতান মাহমুদ। চাকরি ছাড়ার পর কেটে গেছে কয়েক বছর। তবে তার দাবি, সেই কর্মস্থল থেকে এখনো বুঝে পাননি চাকরিকালীন পাওনা। পাওনা টাকা চেয়ে বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাবেক কর্মস্থলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদের আদালতে মো. সুলতান মাহমুদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় নতুন ভিশন লিমিটেড ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আলীসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শোহেল মো. ফজলে রাব্বী।

মামলার আসামিদের মধ্যে নূর আলী নতুন ভিশন লিমিটেড ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। মোহাম্মদ আলী হোসেন নতুন ভিশন লিমিটেডের পরিচালক ও পিএইচপি পরিবারের পরিচালক। অন্য আসামিরা হলেন—দৈনিক আমাদের সময়ের সম্পাদক মো. শাখাওয়াত হোসেন, প্রকাশক ড. খন্দকার শওকত হোসেন, সাবেক সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার এবং প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা মুসা আহামেদ।

১১ বছরের বেশি চাকরি, পাওনা নিয়ে অভিযোগ
মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেছেন, ২০০৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায় কাজ করেছেন। ওই সময়ে তিনি পত্রিকাটির রিপোর্টিং ও সম্পাদকীয় বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।

বাদীর অভিযোগ, চাকরি ছাড়ার পর তার প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো অর্থ তাকে দেওয়া হয়নি বলে মামলার আরজিতে দাবি করা হয়েছে।

বাদীর হিসাব অনুযায়ী, চাকরি ছাড়ার সময় তার পাওনা ছিল ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬২৫ টাকা। তবে মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই টাকা তিনি পাননি।

শেষবার যোগাযোগ ১৫ আগস্ট
পাওনা আদায়ের বিষয়ে সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট পত্রিকাটির সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন সুলতান মাহমুদ। তার দাবি, ওই সময়ও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় এবং পাওনা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়।

পরে পাওনা অর্থ আদায় ও অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে পাওনা পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করেও সমাধান না পাওয়ার পরই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মামলার আসামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও