বাংলাদেশ

জামিনের পরও মুক্তি না দেওয়ার ব্যাখ্যা চট্টগ্রাম জেল সুপারের

16770_IMG_9843.jpeg

উচ্চ আদালতের জামিনের আদেশ পাওয়ার পরও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা ইলিয়াস হোসেনকে মুক্তি না দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন আদালতে লিখিত জবাব দিয়েছেন। জবাবে তিনি জানিয়েছেন, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শো-অ্যারেস্ট) কাগজপত্র পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জেল সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশে দুই দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে জবাব দেন জেল সুপার।

জেল সুপারের দাখিল করা জবাবে বলা হয়, ইলিয়াস হোসেনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় তিনটি, পাঁচলাইশ থানায় একটি এবং খুলশী থানায় একটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে তার অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

জবাব অনুযায়ী, ইলিয়াসের সর্বশেষ মামলার জামিন আদেশ গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে কারাগারে পৌঁছায়। ওই দিন মোট ৯৮ জন বন্দির জামিন আদেশ যাচাই-বাছাই করে তাদের মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। তবে ইলিয়াসকে মুক্তি দেওয়ার আগে পুলিশ প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে অন্য একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর কাগজপত্রও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

এ কারণে ইলিয়াসের জামিন কার্যকর স্থগিত রাখা হয় বলে জবাবে উল্লেখ করেন জেল সুপার। পরে আদালতের দাপ্তরিক সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে তার বিরুদ্ধে অন্য মামলায় হাজিরা-পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছায় বলেও জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে আদালতের জামিনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইলিয়াসকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন জেল সুপার। বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও জবাবে জানানো হয়।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর নগরের কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ওমর গণি এমইএস কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন। পরে তার জামিননামা নিম্ন আদালতে দাখিল করা হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর জামিনের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পরও ইলিয়াসকে মুক্তি না দেওয়ার বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এফ এম আনসার উল্লাহ। তার অভিযোগ ছিল, ইলিয়াসের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলায় হাজিরা-পরোয়ানা বা কারাগারে আটক রাখার আদেশ না থাকা সত্ত্বেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। এরপর আদালত জেল সুপারের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।

ইলিয়াছ হোসেন (২৫) নগরের চকবাজার থানার ঘাসিয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইদ্রিসের ছেলে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চকবাজার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ৬ জুন তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

গত ১৪ মে নগরের জমিয়তুল ফালাহ মাঠে সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরেকটি মামলা হয়। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ২৭(৫)/২৬ ধারায় ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও