বাংলাদেশ

শিক্ষক সংকটে সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

16796_IMG_9928.jpeg

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে তীব্র শিক্ষক সংকট। ১৭টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কার্যত মাত্র পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

শিক্ষক সংকটের কারণে এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে শিখন ঘাটতি।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৩১ জন। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও শিক্ষক সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভও রয়েছে তাদের মধ্যে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে মুহাম্মদ মুসা মিঞা, কৃষি শিক্ষায় মো. জাকির হোসেন, গণিতে মো. রেজাউল হক খান ও মো. হাদিস মিয়া, ব্যবসায় শিক্ষায় মো. কাউসার আহমেদ, জীববিজ্ঞানে অপু নাগ, ভৌত বিজ্ঞানে মো. সোহাগ হোসেন (বিএড প্রশিক্ষণে) এবং সামাজিক বিজ্ঞানে দেবব্রত দাস দায়িত্ব পালন করছেন। তবে বিভিন্ন কারণে সব শিক্ষক নিয়মিতভাবে পাঠদানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। ফলে বাস্তবে পাঁচজন শিক্ষক দিয়েই অধিকাংশ সময় পাঠদান চালাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ৫৩১ জন। শিক্ষক পদ ১৭টি হলেও বর্তমানে আছেন নামে মাত্র কয়েকজন। পাঁচজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও শিক্ষক সংকট দূর করা সম্ভব হয়নি। কয়েকজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কোনো রকমে ক্লাস চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “এত সংকটের মধ্যেও শিক্ষার মান ও পরীক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল ধরে রাখার চেষ্টা করছি।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৭১ সালে। সরাইল সদর এলাকায় প্রায় ৩ দশমিক ৭৩ একর জমির ওপর শিক্ষানুরাগী প্রয়াত রায় বাহাদুর অন্নদা প্রসাদ রায় নিজের নামানুসারে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ১৯৮৬ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। তবে জাতীয়করণের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক সংকট যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চললেও স্থায়ীভাবে এর সমাধান হচ্ছে না। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সরাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন, “বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যতা রয়েছে। শিক্ষক পদায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।”

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর কামরুজ্জামান কবির বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। সরকারি এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

অভিভাবকদের প্রত্যাশা, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা হবে। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষক সংকটের প্রভাব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ফলাফলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সর্বাধিক পঠিত


ভিডিও