যুক্তরাজ্য

MSE
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০৯
আরও খবর

ধার নাকি উপহার? যুক্তরাজ্যে কারো একাউন্টে টাকা দেওয়ার আগে যা জানা জরুরি

16899_images 2.jpeg

পরিবারের সদস্য, আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে প্রয়োজনের সময় টাকা ধার দেওয়া অনেকের কাছেই স্বাভাবিক বিষয়। তবে বড় অঙ্কের টাকা ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। টাকা ফেরত না এলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, দীর্ঘদিনের সম্পর্কেও তৈরি হতে পারে অস্বস্তি বা দূরত্ব। যুক্তরাজ্যের অর্থবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্টিন লুইসের নতুন পরামর্শে তাই পরিবার ও বন্ধুদের টাকা ধার দেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মার্টিন লুইস বলেন, ব্যাংক যখন আমাদের ঋণ দেয়, যেমন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে, তখন উচ্চ হারে সুদ নেয়। অন্যদিকে নিজের অর্থ ব্যাংকে সঞ্চয় করলে তুলনামূলক কম সুদ পাওয়া যায়। এ কারণে প্রয়োজনের সময় অনেকেই ব্যাংকের পরিবর্তে বাবা-মা, সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয় কিংবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়ার পথ বেছে নেন। তবে যিনি টাকা ধার দিচ্ছেন, তার জন্য বিষয়টি কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

টাকা ধার দেওয়ার আগে প্রথমেই ভাবতে হবে, সেই অর্থ ফেরত না এলে নিজের আর্থিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব পড়বে। ঋণগ্রহীতা সময়মতো টাকা ফেরত দিতে না পারলে কী হবে, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হলে কীভাবে সামলানো হবে কিংবা ভবিষ্যতে সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকেই ভেবে নেওয়া জরুরি। পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ থাকলে টাকা ধার না দেওয়াই নিরাপদ হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেটি আদৌ ঋণ নাকি ফেরত পাওয়ার আশা করা একটি উপহার, তা পরিষ্কার করা। যদি টাকা ফেরত না পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা থাকে, অথবা ঋণগ্রহীতাকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়াতে চান, তাহলে একটি আনুষ্ঠানিক ঋণ চুক্তি করা ভালো। সেখানে কত টাকা ধার দেওয়া হয়েছে, কীভাবে এবং কখন টাকা ফেরত দিতে হবে, এসব বিষয় লিখিতভাবে রাখা যেতে পারে।

অন্যদিকে, এমন কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে টাকা দেওয়া হলে, যার বিরুদ্ধে কখনোই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে উভয় পক্ষই জানে, তাহলে সেটিকে প্রকৃত ঋণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে এটি এমন একটি উপহার হতে পারে, যা ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে ফেরত দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে টাকা ফেরত নিয়ে সম্পর্কের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমতে পারে।

যাকে টাকা ধার দেওয়া হচ্ছে, তার আর্থিক সক্ষমতাও যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে টাকা ধার দেওয়ার আগে ব্যাংকের মতো পূর্ণাঙ্গ ক্রেডিট যাচাই করা সহজ নয়। চাইলে ঋণগ্রহীতাকে নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট দেখাতে বলা যেতে পারে। তবে শুধু ক্রেডিট রিপোর্ট দেখলেই তিনি ঋণটি পরিশোধ করতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। তার আয়, নিয়মিত খরচ, অন্যান্য ঋণ ও মাসিক আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার।

টাকার ওপর সুদ নেওয়া হবে কি না, সেটিও আগে থেকেই নির্ধারণ করা উচিত। নিজের অর্থ অন্যকে ধার দেওয়ার অর্থ হলো সেই টাকা সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করে সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হওয়া। তাই সুদ নেওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সুদ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে এবং যুক্তরাজ্যে সুদের আয় করযোগ্য কি না, তা ব্যক্তির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ফলে বড় অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে করসংক্রান্ত নিয়মও আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টাকা ফেরত না এলে কী করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি আদালতে যাওয়ার পরিবর্তে প্রথমে শান্তভাবে ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে মাসিক কিস্তির পরিমাণ কমিয়ে নতুন একটি পরিশোধ পরিকল্পনা করা যেতে পারে। কথায় সমাধান না হলে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো এবং আদালতে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতার মতো বিকল্প পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবার বা বন্ধুকে টাকা ধার দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টাকা দেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা এবং শুরুতেই দুই পক্ষের প্রত্যাশা স্পষ্ট করে নেওয়া। কারণ টাকা ধার দেওয়ার সময় সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ হোক, টাকা ফেরতের বিষয়টি পরিষ্কার না থাকলে পরবর্তীতে সেই সম্পর্কই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও