যুক্তরাজ্য

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯
আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেল : যুক্তরাজ্যে একদিনে ঢুকল রেকর্ড ৭৮১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী

16909_IMG_0252.jpeg

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে ভৌগলিকভাবে পৃথক করা সাগর ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার মোট ৭৮১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী অনুপ্রবেশ করেছে যুক্তরাজ্যে। ১০টি ছোটো নৌকায় চেপে তারা যুক্তরাজ্যের প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের পুলিশ ও কোস্টগার্ড বাহিনী। 

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৬ সালে দেশটিতে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক নথিবিহীন অভিবাসী অনুপ্রবেশের রেকর্ড ঘটেছে ২৩ সেপ্টেম্বর।

এ তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি ২০২৬ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে বিদেশিদের অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে ১৮ হাজার ৫৫৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১৮৮ জন। শতকরা হিসেবে এক বছরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন কমেছে ৪২ শতাংশ।

ব্রিটেনের সরকারের মতে, ছোট নৌকা বা রাবারের ডিঙ্গিতে সওয়ার হয়ে অভিবাসীদের আগমন মোকাবেলায় এ বছর তাদের অগ্রগতি ‘অনস্বীকার্য’, তবে ‘এই জঘন্য তৎপরতা’ নির্মূল করতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ব্রিটিশ কোস্টগার্ডের তথ্য বলছে, ২৩ সেপ্টেম্বরের আগে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ সোমবার ও মঙ্গলবার—উভয় দিনেই—ফ্রান্স থেকে তিনটি ছোট নৌকায় করে প্রায় ১৫০ জন মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে। এর আগে টানা পাঁচ দিন কোনো নৌকাই পারাপার করেনি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ৮০৩ জনের আগমনের পর বুধবারের সংখ্যাটিই ছিল একদিনে সর্বোচ্চ আগমনের রেকর্ড।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক অভিবাসীর আগমনের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, যখন ১,৩০৫ জন অভিবাসী সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ইংলিশ চ্যানেল বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক ও ব্যস্ত নৌ-চলাচলের পথ। আবহাওয়া উষ্ণ থাকলে এবং সমুদ্র শান্ত থাকলে পারাপারের ঘটনা বেশি ঘটে; সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাসিক আগমনের সংখ্যা সর্বোচ্চ থাকে।

ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির উপ-নেতা লুসি পাওয়েল বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ছোট নৌকায় আসা মানুষের সংখ্যা কমাতে সরকার অতিরিক্ত সম্পদ ও নতুন আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। আরও বলেছেন, সরকারের ‘ব্যাপক কর্মযজ্ঞের’ ফলে সরকার ছোট নৌকায় করে আসা মানুষের সংখ্যা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছে’।

বিবিসি রেডিও কেন্ট’কে লুসি পাওয়েল বলেন, “যদি এমন কোনো বোতাম থাকত যা টিপলেই আগামীকাল থেকে ছোট নৌকায় আসা বন্ধ করা যেত, তবে আমরা তা অবশ্যই টিপতাম।”

“আমি জানি মানুষ এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চায়। আমরা জনগণের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপগ নিচ্ছি এবং সেসব কাজও করছে।” সূত্র : বিবিসি

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও