
পানিসম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সমাজের যত অপকর্ম, নারীঘটিত সবকিছুর সঙ্গে বিরোধী দল জড়িত।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পিয়ারাপুর শহীদ মজাফরুল মনির উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নদীতীর সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ্যানি বলেন, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে ৫ আগস্ট পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, গালিগালাজ এমনভাবে করে, এটা হলো বিরোধী দলের গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এটা যদি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হয়, এ দেশের মানুষ তাদেরকে গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও গ্রহণ করবে না। আর এদেরকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্যও বলা যাবে না। এরা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। তারা নিজেরাই বলছে, ১১ দলের দাবি না মানলে বোমাবাজি বন্ধ হবে না, ককটেলবাজি বন্ধ হবে না।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও ফ্যাসিবাদ জড়িত।’ তবে এসব বক্তব্যের সমর্থনে অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, লক্ষ্মীপুরের আয়োজনে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার নদীতীরের ২৭টি স্পটে তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জিও-সিমেন্টের ৩টি প্যাকেজে এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
এ্যানি বলেন, নদীভাঙন থেকে মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। রহমতখালী নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য শিগগিরই ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় তীর সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে বাস্তবায়নাধীন এ কাজের মাধ্যমে নদীতীরের ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কাজটি দ্রুত ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে নদীভাঙন কমার পাশাপাশি মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষা হবে বলে আশা করছেন তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।