যুক্তরাজ্য

BBC
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০৯
আরও খবর

'ব্রিটেনের তরুণদের বেনিফিট নয়, চাকরী দিতে চাই' - চ্যান্সেলর হিলি

16989_21935300-bb35-11f1-bd21-bdf910f2cec6.jpg

 

ব্রিটেনের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন চ্যান্সেলর জন হিলি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়িয়ে দেশের কল্যাণভাতা বা ওয়েলফেয়ার ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে দেওয়া উচিত নয়।

লিভারপুলে লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে জন হিলি বলেন, ওয়েলফেয়ার খাতে ব্যয় কমানো শুধু অর্থনৈতিক প্রয়োজন নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও। তাঁর ভাষায়, একজন তরুণকে সবচেয়ে ভালো যে সুযোগ দেওয়া যায়, তা হলো ভাতা নয়, বরং প্রশিক্ষণসহ প্রথম চাকরি এবং একটি নিয়মিত বেতন।

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ইংল্যান্ডের মেয়রদের জন্য স্থানীয় অ্যাপ্রেন্টিসশিপ সার্ভিস সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন তিনি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও হাজারো তরুণের জন্য শিক্ষানবিশ বা অ্যাপ্রেন্টিসশিপের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন চ্যান্সেলর।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চ থেকে পুরো ইংল্যান্ডে এই কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের দলগুলো তরুণদের সঙ্গে নিয়োগদাতাদের যোগাযোগ করিয়ে দেবে। বিশেষ করে যেসব ছোট ব্যবসা আগে কখনো প্রশিক্ষণার্থী নিয়োগ করেনি, তাদেরও এই উদ্যোগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ১০ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ট্রেজারি জানিয়েছে, ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন্সের প্রতারণা ও অনিয়মবিরোধী পদক্ষেপ থেকে পাওয়া সাশ্রয় দিয়ে এই অর্থের ব্যবস্থা করা হবে।

জন হিলি বলেন, স্থানীয় মেয়রদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ হলো, কোন এলাকায় কোন প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগ করছে, কোন কলেজে ভালো প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং কোন অঞ্চল উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে, তা স্থানীয় নেতৃত্বই সবচেয়ে ভালো জানে।

চ্যান্সেলরের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সরকারের ওপর আগামী মাসের বাজেটকে ঘিরে সরকারি ব্যয় কমানো অথবা কর বাড়ানোর চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ঋণের খরচ কমানোর বিষয়েও সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। বাজারকে আশ্বস্ত করতে হিলি বলেন, সরকারের সব প্রতিশ্রুতিই আর্থিক শৃঙ্খলার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে এবং তিনি ও প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারের নির্ধারিত আর্থিক নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ।

তিনি বলেন, আগামী বাজেট পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা স্বস্তির সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ১৯৯০-এর দশকে নিউ লেবার সরকারের হাতে যে পরিমাণ অর্থ ছিল, বর্তমানে সেই সুযোগ নেই।

ব্রিটেনে বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বলে উল্লেখ করেন হিলি। এদের ‘নিট’ নামে পরিচিত করা হয়। তাঁর মতে, ভাতা ব্যবস্থাকে তরুণদের কর্মজীবনে প্রবেশের পথে একটি সেতু হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে সেটি দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

হিলি বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা প্রগতিশীল হতে পারে না, যেখানে ভাতার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে, কিন্তু তরুণদের জন্য ভবিষ্যতের পথ তৈরি হচ্ছে না। তিনি তরুণদের ‘ডিজিটাল নেটিভ’, মেধাবী, উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সাহসী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের হতাশার প্রজন্ম থেকে আশার প্রজন্মে নিয়ে যেতে হবে।

তবে চ্যান্সেলরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। ছায়া চ্যান্সেলর অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ দাবি করেন, লেবার এমপিরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ওয়েলফেয়ার ব্যয় কমানোর উদ্যোগকে সমর্থন করবেন না। তাঁর অভিযোগ, লেবার সরকারের অধীনে কর্মরত মানুষের ওপর আরও কর এবং কর্মহীনদের জন্য আরও ভাতার নীতি দেখা যাবে।

ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের পরিচালক হেলেন মিলার বলেন, শুধু আর্থিক নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিলেই সরকারি ঋণ কমানো নিশ্চিত হবে না। তাঁর মতে, ওয়েলফেয়ার ব্যয় কমানো, যার মধ্যে কিছু মানুষের সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে, তা দ্রুত সরকারি ঋণ কমানোর একটি সম্ভাব্য উপায় হতে পারে।

বক্তব্যে দেশের শিল্পখাত পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন জন হিলি। তিনি জানান, রোলস-রয়েস ডার্বি, ব্রিস্টল, গ্লাসগো ও রদারহ্যামের ব্রিটিশ কারখানাগুলোতে আরও ৩০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করবে।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডে ইউনিয়ন লার্নিং ফান্ড পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন তিনি। ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া এই তহবিল পরবর্তীতে কনজারভেটিভ সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের সময়ে কর্মজীবী মানুষকে নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করাই এর লক্ষ্য বলে জানান হিলি। তবে এই উদ্যোগের অর্থায়ন কীভাবে হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

এদিকে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে নিজের বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেননি চ্যান্সেলর। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে পেনশনের ‘ট্রিপল লক’ ব্যবস্থা রাখা হবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি তিনি। সামাজিক সেবা ব্যবস্থার অর্থায়নে নতুন অর্থের প্রয়োজন মেটাতে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও