
বগুড়া মহানগরে যুবকের গলাকেটে নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত রাকিবুল হাসান বকুল (৩৮) শহরে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলা, মাদক, নারী নির্যাতনসহ হাফডজন মামলার তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। দাম্পত্য কলহ জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িত সন্দেহে দুই নারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার বিকেলে নগরীর ঝোপগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রাকিবুল হাসান বকুল নিশিন্দারা উত্তরপাড়া মহল্লার আব্দুল গণি মিয়ার ছেলে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক দুই নারী হলেন- নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার ও শাশুড়ি বুলি বেগম। থানা হেফাজতে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১৭ বছর আগে পারভীন আক্তারের সঙ্গে বকুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। বেপরোয়া স্বামীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে বিরক্ত ছিলেন স্ত্রী। বাড়িতে বসেই অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের কারবার করতেন বকুল। ২০২৪ সালে নারী নির্যাতন ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে স্ত্রী পারভীন। এনিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বকুলের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়ে। ঘটনাটি বিবাহ বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াচ্ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরে স্ত্রী পারভীনের সঙ্গে দেখা করতে শ্বশুর বাড়িতে যান বকুল। সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বকুলকে কুপিয়ে জখম করে। গলাকেটে হত্যা করে বলেও অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটকের সময় পুলিশ সদস্যের হামলা চেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১২ (এসআরবি) বগুড়ার সদস্যরা। এ তথ্য জানিয়েছেন স্কোয়াড কমান্ডার (সহকারী পুলিশ সুপার) নাসির উদ্দিন।