
যুক্তরাজ্যে বেনিফিট গ্রহণকারীদের ঋণ ও বেনিফিট জালিয়াতির বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (DWP)। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ক্ষমতার আওতায়, গুরুতর ক্ষেত্রে আদালতের অনুমোদন নিয়ে বেনিফিটগ্রহীতার ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল বা স্থগিত করার উদ্যোগ নিতে পারবে DWP।
সরকারের দাবি, বেনিফিট জালিয়াতি এবং সরকারের পাওনা অর্থ আদায়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই নতুন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যারা সরকারের পাওনা অর্থ পরিশোধের বিষয়ে বারবার সহযোগিতা করছেন না বা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন নিয়মের আওতায় DWP ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করতে পারবে। ব্যাংকগুলোকে বেনিফিটগ্রহীতাদের অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য করা হবে। এর মাধ্যমে কারও সঞ্চয়, অন্যান্য আয় কিংবা আর্থিক পরিস্থিতি যাচাই করে তিনি যে পরিমাণ বেনিফিট পাচ্ছেন, তার জন্য যোগ্য কি না তা নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া DWP-এর পাওনা অর্থ আদায়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অর্থ কেটে নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে ‘ডাইরেক্ট ডিডাকশন অর্ডার’ দেওয়া যাবে।
তবে ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত করার ক্ষমতা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। DWP জানিয়েছে, সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতিতে, যখন কেউ ধারাবাহিকভাবে ও ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যাচ্ছেন, তখন আদালতের মাধ্যমে লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করার আবেদন করা যাবে। আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য ছিল, কিন্তু যথাযথ কারণ ছাড়াই তিনি তা পরিশোধ করেননি।
সরকারের এই নতুন ক্ষমতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ এটিকে অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে মন্ত্রীরা বলছেন, প্রতিবছর বেনিফিট জালিয়াতি ও অপরিশোধিত সরকারি অর্থের কারণে বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্ষতি হচ্ছে, যা আর উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।
ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস মন্ত্রী ফর ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড্রু ওয়েস্টার্ন বলেন, পরিশ্রমী করদাতারা এমন একটি ব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন, যেখানে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যান, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন ক্ষমতাগুলো সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।