যুক্তরাজ্য

Birmingham Mail
৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:১০
আরও খবর

বেনিফিটের টাকা ফেরত না দিলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে DWP

17148_licence-b-1280x720px.jpeg

যুক্তরাজ্যে বেনিফিট গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে নতুন কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর শুরু করেছে ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস ডিপার্টমেন্ট (DWP)। নতুন ক্ষমতার আওতায়, যারা বেনিফিটের অতিরিক্ত বা ভুলভাবে পাওয়া অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঋণ পরিশোধ এড়িয়ে যাবেন, তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করার উদ্যোগ নিতে পারবে সরকার।

ইউনিভার্সাল ক্রেডিটসহ বিভিন্ন ধরনের বেনিফিট গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই নতুন ক্ষমতা প্রয়োগ করা হতে পারে। তবে সরাসরি DWP কোনো ব্যক্তির লাইসেন্স বাতিল করবে না। গুরুতর ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং আদালত সন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স রাখার অধিকার থেকে বিরত রাখা হতে পারে।

অক্টোবরের শুরু থেকে এই নতুন ক্ষমতাগুলো কার্যকর হয়েছে। সরকারের দাবি, বেনিফিট জালিয়াতি ও সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকানোর পাশাপাশি যারা DWP-এর কাছে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করছেন না, তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় DWP কোনো ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেও বকেয়া অর্থ সরাসরি আদায় করতে পারবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সরাসরি অর্থ কেটে নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে বিভাগটি। পাশাপাশি বেনিফিট পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য, সঞ্চয় এবং অন্যান্য আয়ের তথ্য DWP-এর কাছে সরবরাহ করতে হতে পারে।

সরকার বলছে, নতুন ক্ষমতাগুলো বিশেষ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করছেন না এবং DWP-এর সঙ্গে যোগাযোগ বা সহযোগিতা করতেও অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। তবে নতুন ব্যবস্থাকে ঘিরে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ এটিকে অতিরিক্ত কঠোর ও দমনমূলক বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে লেবার সরকারের দাবি, বেনিফিট জালিয়াতির কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের ক্ষতি হচ্ছে। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা বকেয়া পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

DWP জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ এড়িয়ে গেলে এবং তাঁর সেই অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না দিলে, সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে আদালতের কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিলের আবেদন করা হবে।

ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস মন্ত্রণালয়ের ট্রান্সফরমেশন বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান্ড্রু ওয়েস্টার্ন বলেন, যারা নিয়ম মেনে কর ও অন্যান্য সরকারি ব্যয় বহন করেন, তাদের অর্থ যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেরত দিতে অস্বীকার করেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নতুন ক্ষমতাগুলো সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে বলে তিনি দাবি করেন।

সরকারের প্রত্যাশা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অর্থ আদায় এবং গুরুতর ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপের হুমকি বেনিফিটের বকেয়া অর্থ পরিশোধে আরও বেশি মানুষকে DWP-এর সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করবে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও