
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের ভাইরাল অডিওর কণ্ঠ তারই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই অডিওর মাধ্যমে তিনি কোনো তথ্য পাচার করেছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
ডিবিপ্রধান বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের যে অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে, সেটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই কণ্ঠ তারই। আদালতের অনুমতি নিয়ে তার কণ্ঠস্বর সংগ্রহ করা হয়। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে পরীক্ষা করে অডিওতে থাকা কণ্ঠ তার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রাকিবুল হাসানকে দু’দফায় রিমান্ডে নেয়ার পর তদন্তে কী তথ্য পাওয়া গেছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কথোপকথনের অডিওটি রাকিবুল হাসানের কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটি অন্য কোনোভাবে তৈরি বা বানানো হয়নি বলেও জানান তিনি।
তবে ওই কথোপকথনের পেছনের প্রেক্ষাপট কী ছিল, কোথায় এবং কার সঙ্গে ওই আলোচনা হয়েছিল, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান ডিবিপ্রধান। একই সঙ্গে ওই অডিওর মাধ্যমে কোনো তথ্য পাচার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানের কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, পুলিশের সক্ষমতা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়। পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও ওই অডিওতে কথা বলতে শোনা যায়।
ওই অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাকে দু’দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও কণ্ঠস্বর পরীক্ষার মাধ্যমে অডিওটির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হয়।