
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ(মমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক তরুণসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৭ জন।চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১২৭ জন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর)মমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ১২৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এঁদের মধ্যে পুরুষ ৮৮ জন, নারী ২৮ এবং শিশু ১১ জন। সংকটাপন্ন অবস্থায় দু'জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
চলতি বছরে হাসপাতালটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ২৯ জন।
সর্বশেষ মারা যাওয়া তিনজন হলেন—ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মিনহাজ (১৮), ফুলবাড়িয়া উপজেলার হারিছা বেগম (৬৫) এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী
উপজেলার মরিয়ম (৪৫)।
মমেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হারিছা বেগম গত ৮ অক্টোবর রাত ২টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই দিন সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসজনিত কিটোঅ্যাসিডোসিসের সঙ্গে ডেঙ্গুর কারণে রক্তক্ষরণজনিত শকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিক,নান্দাইলের মিনহাজ ৭ অক্টোবর বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ৮ অক্টোবর দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে জটিল ডেঙ্গু পরিস্থিতি, ডেঙ্গু সংশ্লিষ্ট রক্তক্ষরণজনিত জ্বর এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় গুরুতর জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার মরিয়ম ৮ অক্টোবর রাত ১টা ৩৩ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি হন। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ডেঙ্গু জ্বরের সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহজনিত প্রতিবন্ধকতার কারণে সৃষ্ট স্ট্রোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান ডেঙ্গুতে ৩জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এক হাজার শয্যার হওয়ায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত রোগীদের জন্য জায়গা ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি সংকট হওয়ায় পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরো অংশকে আইসোলেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ জনগণকে আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।