যুক্তরাজ্য

BBC
২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০
আরও খবর

জরুরি প্রস্তুতির সরকারি আহ্বানের পর যুক্তরাজ্যে টিনজাত খাবার, রেডিও ও টর্চ কেনার হিড়িক!

17395_radio.jpg

যুক্তরাজ্যে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত রাখার সরকারি আহ্বানের পর টিনজাত খাবার, রেডিও, টর্চ ও মোবাইল চার্জ দেওয়ার যন্ত্র কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ‘বি রেডি’ (প্রস্তুত থাকুন) প্রচারণার পর এসব পণ্যের বিক্রি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিবিসির নিউজ নাইট অনুষ্ঠানের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে গত সপ্তাহান্তে টিনজাত পণ্যের বিক্রি বেড়েছে ৪০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সরকারের সতর্কবার্তায় সাড়া দিয়ে ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকেছেন। বোতলজাত পানির বিক্রিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতা রবার্ট ডায়াসে গত সপ্তাহের তুলনায় রেডিওর বিক্রি বেড়েছে ১৬০ শতাংশ। প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা ম্যাপলিন জানিয়েছে, সরকারের ঘোষণার পর আগের মাসের একই সময়ের তুলনায় তাদের রেডিওর বিক্রি বেড়েছে ৯২ শতাংশ, টর্চের বিক্রি ২৮৪ শতাংশ এবং মোবাইল চার্জ দেওয়ার বহনযোগ্য যন্ত্রের বিক্রি ১০৬ শতাংশ।

ম্যাপলিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অলি মার্শাল বলেন, সরকারের ‘বি রেডি’ প্রচারণা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রেতারা জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। বিশেষ করে টর্চ, হাত দিয়ে ঘুরিয়ে চার্জ করা যায় এমন রেডিও এবং মোবাইল চার্জ দেওয়ার বহনযোগ্য যন্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ও তথ্য পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখতে এসব পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ২২ অক্টোবর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জরুরি পরিস্থিতির জন্য পরিবারগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। সম্ভাব্য সাইবার হামলা, চরম আবহাওয়া কিংবা অন্যান্য সংকটের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হলে যেন মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকটে না পড়ে, সে জন্য ঘরে পর্যাপ্ত খাবার ও জরুরি সরঞ্জাম রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

সরকারি পরামর্শ অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন তিন লিটার পানি, পর্যাপ্ত টিনজাত খাবার, শিশুখাদ্য, ব্যাটারিচালিত টর্চ এবং মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য বহনযোগ্য চার্জার ঘরে রাখা উচিত।

স্বাধীনভাবে পরিচালিত অনলাইন দোকানগুলোতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। জরুরি প্রস্তুতিসামগ্রী বিক্রেতা সার্জেন্ট প্রেপারের প্রতিনিধি জশ প্রিংগল জানান, সরকারি প্রচারণা শুরুর পর তাঁদের বিক্রি প্রায় দশ গুণ বেড়েছে। ক্রেতাদের মধ্যে হাত দিয়ে ঘুরিয়ে চার্জ করা যায় এমন রেডিওর চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।

প্রিপারার্স শপ ইউকে-এর প্রতিষ্ঠাতা লিংকন মাইলসও জানান, সরকারি ঘোষণার পর তাঁদের বিক্রি ৬৫০ শতাংশ বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চলার উপযোগী পণ্য কেনার প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিক্রির এই ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, মানুষ বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা উৎসাহব্যঞ্জক। টিনজাত খাবার, টর্চসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য ঘরে রাখলে বন্যা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা কিংবা পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হতে পারে। তাঁর মতে, যুক্তরাজ্যকে আরও সহনশীল ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রয়েছে।

সরকারের এই আহ্বানের পর বাজারে জরুরি প্রস্তুতিসামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও আইসল্যান্ড জানিয়েছে, টিনজাত খাবার ও বোতলজাত পানির সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত


আরও খবর
ভিডিও