
শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কারখানায় ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের ১০ জনের বেশি সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৬টি পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টার পর আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, আমতলা, নয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে কাঠগড়া এলাকার নাঈম নিটওয়্যারের শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি শুরু করেন।
পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা আশপাশের কয়েকটি কারখানা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে কন্টিনেন্টাল গার্মেন্টস, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরে দুপুরের দিকে শ্রমিকেরা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের ১০ জনের বেশি সদস্যসহ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার দুপুরের দিকে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিউ এইজ কারখানার সামনে থেকে হাতবোমাসদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করে শিল্প পুলিশ।
কে বা কারা এসব বস্তু সেখানে রেখেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
শিল্প পুলিশ-১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ ফয়সল ইসলাম তিনটি বস্তু উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে হাতবোমাসদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিক অসন্তোষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৬টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে এআর জিন্স, কন্টিনেন্টাল, নাঈম নিটওয়্যার, নিউ এইজ, নিট এশিয়া ও স্টার্লিং ক্রিয়েশনসহ বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে। এর আগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় কাঠগড়া ও আশপাশের এলাকার অন্তত ১৩টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে বন্ধ কারখানার সংখ্যা আরো বাড়ে।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বিভিন্ন কারখানা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের ১০ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।