
যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ারের বুশি এলাকায় বিনিয়োগের নামে ২ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড প্রতারণার দায়ে মাহেন্দ্র সারভেন্দ্র (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে ছয় বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী মিরনালিনি সারভেন্দ্রকে (৫১) তিন বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে মাহেন্দ্র ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাঁদের বাড়ির মর্টগেজ পুনর্বিন্যাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি একটি দোকান ও একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেন।
কিন্তু বিনিয়োগের নামে নেওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে নিজের বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করেন মাহেন্দ্র। এতে ভুক্তভোগীরা প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড হারান। তাঁদের ফেরত দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ হাজার পাউন্ড।
হার্টফোর্ডশায়ার পুলিশের তদন্তের পর মাহেন্দ্র ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সেন্ট অ্যালবানস ক্রাউন কোর্টে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিচার হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলেও আদালত উভয়কেই দোষী সাব্যস্ত করেন।
আদালত মাহেন্দ্র সারভেন্দ্রকে ছয় বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। তাঁর স্ত্রী মিরনালিনিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তবে তা তিন বছরের জন্য স্থগিত থাকবে।
এদিকে, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিটেকটিভ কনস্টেবল লরা ভার্নি বলেন, মাহেন্দ্র প্রথমে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে নিজেকে একজন আর্থিক পেশাজীবী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে তাঁর কথিত আর্থিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ভুয়া বিনিয়োগের পরামর্শ দেন। এসব বিনিয়োগের বেশির ভাগ অর্থই নিজের জীবনযাত্রার পেছনে ব্যয় করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক বিনিয়োগ একটি বিশেষায়িত বিষয়। তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ বিনিয়োগের আগে তাদের পরিচয়, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।